দক্ষিণ এশিয়া

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বিপর্যয়: বন্যায় প্রাণহানি ৩৯০ ছাড়ালো, নিখোঁজ সহস্রাধিক

কাঠমান্ডু, ২৮ আগস্ট – হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল এবং চীনের তিব্বত অঞ্চলে নিহতের সংখ্যা ৩৯০ ছাড়িয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত এক হাজার চারশ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আকস্মিক বন্যায় নদীর পানির সঙ্গে আসা কাদা ও পাথরের স্রোতে স্থানীয় জনপদ এবং উপত্যকাগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চালিয়েছে।

উদ্ধারকারীরা বৃহস্পতিবার কাদার স্তূপের মধ্য থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান শুরু করেছেন। নেপাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ৩৮৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ চীনের তিব্বত অঞ্চলে আরও তিনজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং দুর্যোগকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় ৯১০ জন নেপালি নাগরিক ছাড়াও পাঁচ শতাধিক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পর্যটন বিভাগ। এদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার নাগরিক রয়েছেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ১০০ জন তাদের দেশের নাগরিক। তিব্বতের গিরং কাউন্টিতেও শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে এবং ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকের হাড় ভেঙে যাওয়া ও ত্বকে ক্ষতের মতো গুরুতর জখম রয়েছে। নদীর নিম্নপ্রবাহে বহু ঘরবাড়ি এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনীর পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য অংশ নিয়েছেন। ভারত থেকে পাঠানো তাঁবু, খাবার ও ওষুধ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে দিচ্ছে সেনাবাহিনী।

বন্যার প্রভাব ভারতের সীমান্তবর্তী উত্তর প্রদেশ ও বিহার অঞ্চলেও পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সেখান থেকে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রকৃতিবিদদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হিমবাহের পাথর ও বরফ ধসে পড়ার ফলে সৃষ্ট প্রবল স্রোত এই ধ্বংসযজ্ঞের মূল কারণ।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপর্যয় মূলত জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রভাব। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে হিমালয় সংলগ্ন দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

এস এম/ ২৮ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language