মধ্যপ্রাচ্য

বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল অন্ধকার করার হুমকি ইরানের

তেহরান, ৬ আগস্ট – ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে বিদ্যুৎহীন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য হামলার জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকাও পাঠিয়েছে ইরান।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুইজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন। তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের অনুরোধ এবং কূটনৈতিক আলোচনার আশায় তিনি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। ট্রাম্পের ওই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতেই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে আক্রমণ করেন, তবে ইরান একের পর এক দেশে হামলা চালিয়ে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্য একজন কর্মকর্তাও তেহরানের পক্ষ থেকে এই বার্তা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় তারা কেউই পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সম্ভাব্য হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।

এর আগে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ করা হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত করা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর একই ধরনের স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হবে। এবারের বার্তায় ইরান হামলার জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর একটি দীর্ঘ তালিকাও সরবরাহ করেছে। এই তালিকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি সুপেয় পানি পরিশোধন কেন্দ্রগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মরুভূমিপ্রধান এই অঞ্চলে পানীয় জলের জন্য মূলত এসব কেন্দ্রের ওপরই নির্ভর করতে হয়।

আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এই বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলেছেন। এর আগে কুয়েত ও বাহরাইনেও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার নজির রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এনএন/ ৬ আগস্ট ২০২৬


Back to top button