ইলিয়াস আলী গুমের দ্বিতীয় দফায় সফল হন জিয়াউল আহসান: ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন

ঢাকা, ৬ আগস্ট – বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে অপহরণের প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তাকে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে তথ্য পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এই ঘটনায় সেনা হেফাজতে থাকা উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে প্রাথমিক তদন্ত ও সাক্ষীদের জবানবন্দিতে অপহরণের ঘটনায় সাইফুর রহমানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী থেকে নিখোঁজ হওয়া ইলিয়াস আলীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে আসছিল বিএনপি।
সাম্প্রতিক তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে তৎকালীন র্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নির্দেশে প্রায় দেড় থেকে দুইশ ব্যক্তিকে গুম করার ঘটনা ঘটেছিল।
ট্রাইব্যুনালের সহযোগী সাক্ষী ইমরুল কায়েসের জবানবন্দি অনুযায়ী ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে ইলিয়াস আলীকে ধরার জন্য ওত পেতে ছিলেন কর্মকর্তারা কিন্তু টার্গেট উপস্থিত না হওয়ায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে তাকে তুলে নেওয়ার পর র্যাব সদর দপ্তরের তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংস করা হয়েছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে যে এই ঘটনার পর বাহিনীর ভেতরে এক থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তারা নিয়মিত উপস্থিত থেকে প্রমাণ নষ্টের তদারকি করতেন।
আগামী রোববার ট্রাইব্যুনাল থেকে এই মামলায় গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত আদেশ আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনএন/ ৬ আগস্ট ২০২৬









