জাতীয়

৫ আগস্টের সেই চূড়ান্ত মুহূর্ত: শেখ হাসিনার ফোন সত্ত্বেও যেভাবে বিমান মিস করেন সালমান এফ রহমান!

ঢাকা, ৬ আগস্ট – ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই যাত্রায় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে, শেখ হাসিনা ও তার বোন ভারতে যাওয়ার সময় তাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানকে সঙ্গে নিতে চেয়েছিলেন।

গণভবনে ৫ আগস্ট সকালে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুযায়ী, গণভবন থেকে বের হওয়ার সময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা মাত্র কয়েকজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তারা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগে সালমান এফ রহমান এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিককে একাধিকবার ফোন করেন এবং দ্রুত বিমানবন্দরে পৌঁছাতে বলেন।

পরবর্তীতে ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়েও শেখ হাসিনা ও তার বোনকে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন কণ্ঠে সালমান এফ রহমানকে বাসা থেকে দ্রুত বের হওয়ার জন্য তাগাদা দিতে শোনা যায়। তবে একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ওই সময় সালমান এফ রহমান সরকারের পক্ষে বিদেশি সমর্থন আদায়ের শেষ চেষ্টা হিসেবে একটি পশ্চিমা দেশের ভারপ্রাপ্ত দূতের সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। সেই বৈঠকের কারণে তিনি নির্দিষ্ট সময়ে তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।

যদিও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার জন্য একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ প্রস্তুত ছিল, কিন্তু সেনাসদস্যদের ব্যারিকেড ভেঙে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বিমানবন্দর এলাকায় ঢুকে পড়ায় তার পক্ষে সেখানে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তার জন্য অপেক্ষা না করেই দেশ ত্যাগ করেন।

উল্লেখ্য, সালমান এফ রহমান শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতেন। শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর দেশজুড়ে তাকে ধরার জন্য তল্লাশি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত নৌপথে পালানোর চেষ্টাকালে সদরঘাট এলাকা থেকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এনএন/ ৬ আগস্ট ২০২৬


Back to top button