দক্ষিণ এশিয়া

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ নেই ভারতে: সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন

নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই – ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থানকালে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকা থেকে আসা অনুরোধটি বর্তমানে দেশটির বিদ্যমান আইন ও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় উপস্থাপিত পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে। কমিটির নবম প্রতিবেদনে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বিষয়ক পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশগুলো স্থান পেয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে বাংলাদেশের আদালত শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে দণ্ড ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকার তাকে প্রত্যর্পণের যে অনুরোধ জানিয়েছিল ভারত সরকার তা আমলে নিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে কমিটিকে নিয়মিত অবহিত রাখার জন্য কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে দেশটির সভ্যতার আদর্শ এবং বিপদে পড়া ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার মানবিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে কমিটি।

ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও একই নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

কমিটি আরও সুপারিশ করেছে যে সরকার যেন তার নীতিগত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত রাখে এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে।

উল্লেখ্য যে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক এই প্রতিবেদনে উঠে আসে।

এনএন/ ৩১ জুলাই ২০২৬


Back to top button