এশিয়া

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ১০০টির বেশি আফটারশক, নিহত ১৩

টোকিও, ২৯ জুলাই – জাপানের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় কিউশু অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১০০টির বেশি পরবর্তী কম্পন বা আফটারশক অনুভূত হয়েছে। শক্তিশালী এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে কার্ডিওপালমোনারি অ্যারেস্ট অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

জাপানে সাধারণত মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। কুমামোতো প্রিফেকচারের একটি কাগজ কারখানা এবং একটি শপিংমলের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার অভিযানের সময় ওই শপিংমলে একটি বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক বিবৃতিতে বলেন যে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের দ্রুত উদ্ধার করা এখন সময়ের দাবি। দুর্গত এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এবং অনেক এলাকা এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ করে আগামী দুই থেকে তিন দিনে আরও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হতে পারে। সংস্থাটি বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রিফেকচারে ভূমিকম্পটি প্রথম আঘাত হানে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাশিমার এইয়ন শপিংমল। ভূমিকম্পের প্রভাবে ভবনটির একটি অংশ ধসে পড়ার পর সেখানে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। শপিংমল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সেখানে বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

অন্যদিকে ইয়াতসুশিরো শহরের একটি কাগজ কারখানাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানেও কয়েকজন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ৪ হাজার ৬০০ এর বেশি সদস্য উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। তবে প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১ তবে ইউএসজিএস এর মাত্রা ৬ দশমিক ৮ বলে জানিয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এনএন/ ২৯ জুলাই ২০২৬


Back to top button