ফুটবল

ইন্দোনেশিয়ার নারীর সঙ্গে ছবি নিয়ে সাদ-সোহেল রানার ভিন্ন দাবি

সাদ-সোহেল

ঢাকা, ০২ অক্টোবর- ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে আসিয়ান কাপ শেষ করেছে বাংলাদেশ। এত গোল হজম করায় এমনিতেই সমালোচনা চলছে। এর মধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার এলেনা নামের এক নারী বাংলাদেশের দুই ফুটবলার সাদ ও সোহেল রানাকে নিয়ে নাইট ক্লাবের একটি ছবি পোস্ট করেছেন। ছবিটি দেখে সেটিকে পানশালা ও ডিস্কোর মতো জায়গা বলে মনে হচ্ছে। এত বড় হারের পর ইন্দোনেশিয়ার ওই নারীর এমন পোস্ট দেখে ফুটবলপ্রেমীদের ধারণা, জাকার্তায় ম্যাচের আগে বা পরে তারা ওই ক্লাবে গিয়েছিলেন।

ঢাকা পোস্টের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইন্দোনেশিয়ার ওই নারীর সঙ্গে ছবির বিষয়টি অস্বীকার করেননি সাদ ও সোহেল রানা। তবে ছবিটি কোথায় এবং কখন তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা ভিন্ন দাবি করেছেন। তারা বলেন, ‘মোহামেডানে সাইন করার পর আমরা ফ্রি ছিলাম। জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগে নেপালে ঘুরতে গিয়েছিলাম। তখন একটি (লোডা) ক্লাবে তার সঙ্গে দেখা ও পরিচয় হয়েছিল। এটি জাকার্তা বা ইন্দোনেশিয়ায় নয়।’

ইন্দোনেশিয়ার নারী এলেনা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন, ‘বাংলাদেশে ফুটবলারদের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে তাদের এইচ ক্লাবে। বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া ম্যাচ দেখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তারা। এটা খুবই ফানি হতো যদি খেলা দেখতাম এবং বাংলাদেশের পক্ষে চিয়ার করতাম আমাদের জাতীয় দলের পরিবর্তে।’ তাকে খেলা দেখতে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে জাকার্তা থেকে সাদ বলেন, ‘নেপালে তার সাথে পরিচয়। জাকার্তা আসার পর তাকে খেলা দেখতে আসতে বলেছিলাম, সে আসেনি।’

ফুটবলাররা দেশের তারকা। শুধু ক্রীড়াঙ্গন নয়, তরুণ সমাজও তাদের অনুসরণ করে। তাই নাইট ক্লাবে পানশালা কিংবা ডিস্কোতে যাওয়া শৃঙ্খলা পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়। সাদ ও সোহেল দুজনই সিনিয়র ফুটবলার। এরপরও তারা এমন কাজ করলেন কেন—এ প্রশ্নের জবাবে সোহেল রানা জুনিয়র বলেন, বিষয়টি ভুল হয়েছে এবং সঠিক হয়নি, এজন্য তিনি দুঃখিত। সাদ উদ্দিন বলেন, ‘একটা বিষয়কে না জেনে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। আগে-পেছনে তথ্য থাকতে পারে, আমাদের পরিবার রয়েছে, ব্যক্তিগত জীবন আছে। ঐ সময় ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের কোনো খেলা কিংবা ক্যাম্প ছিল না।’

ম্যাচ কমিশনারের গায়ে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় সাদ উদ্দিনকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর ফলে তার জাতীয় দলে খেলা সম্ভব ছিল না। পরে ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি ছয় মাসের বহিষ্কারাদেশ কমিয়ে ছয় ম্যাচ করে, যাতে তিনি জাতীয় দলে খেলতে পারেন। সেই ফুটবলারই আবারও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন।

সাদ ও সোহেল দুজনই ছবিটি নেপালের বলে দাবি করেছেন। তারা বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ায় হোটেল থেকে বের হওয়া নিয়ে কড়াকড়ি ছিল।’ যদিও এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে আমিরুল ইসলাম বাবু ম্যানেজার থাকাবস্থায় জাতীয় দলে শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা থাকে—ফুটবলাঙ্গনে এমন আলোচনা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ায় দলের ব্যর্থতার পেছনে শৃঙ্খলাহীনতা, সমন্বয়হীনতা এবং অব্যবস্থাপনাও কিছুটা দায়ী বলে মনে করেন দলসংশ্লিষ্ট অনেকে।

এস এম/ ০২ অক্টোবর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language