ফুটবল

রেফারি নিয়োগে মারাত্মক জালিয়াতি ও চাপ প্রয়োগ: তুরস্কে সেন্ট্রাল রেফারি বোর্ডের প্রধানসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

ইস্তাম্বুল, ৩০ সেপ্টেম্বর – তুর্কি ফুটবলে আবারও নেমে এসেছে চরম অস্থিরতা ও কেলেঙ্কারির কালো ছায়া। রেফারি নিয়োগ, মূল্যায়ন এবং শ্রেণিবিন্যাস প্রক্রিয়ায় গুরুতর হস্তক্ষেপ ও জালিয়াতির অভিযোগে দেশটির কেন্দ্রীয় রেফারি বোর্ডের (MHK) প্রধান ফেরহাত গুনদোগদু এবং তাঁর ডেপুটিসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই অভিযানের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

চার প্রদেশে একযোগে অভিযান

তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, রেফারিদের পরীক্ষায় হস্তক্ষেপ, নিয়মবহির্ভূত নম্বর প্রদান, ম্যাচে দায়িত্ব বণ্টন এবং ভূয়া বা জাল নথি ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার অভিযোগ ওঠে বর্তমান রেফারি বোর্ডের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দেশের চারটি প্রদেশে একযোগে তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করে সন্দেহভাজনদের নিজ নিজ বাসভবন ও কার্যালয় থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

তুরস্কের বিচার মন্ত্রণালয় জানায়, “তদন্ত প্রক্রিয়ায় শুধু মুখের কথার ওপর নির্ভর করা হচ্ছে না। ব্যাংক লেনদেনের আর্থিক নিরীক্ষা, ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ, বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে পুরো জালিয়াতি চক্রটিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। রেফারিদের ওপর অনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”

বিতর্কের আবর্তে তুর্কি ফুটবল

উল্লেখ্য, তুরস্কের ফুটবল এর আগেও বেশ কয়েকবার দুর্নীতি ও অবৈধ বেটিং কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় হয়েছে। গত বছর দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (TFF) পেশাদার লিগের ৫৭১ জন রেফারির তথ্য যাচাই করে ১৫২ জনকে অবৈধ বাজিতে সরাসরি সম্পৃক্ত পায় এবং মোট ১৪৯ জন রেফারিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

তবে বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক স্পষ্ট করেছেন যে, পূর্ববর্তী বাজি-কাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান গ্রেপ্তারের কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। এবারের অভিযানটি সম্পূর্ণভাবে রেফারিং প্যানেলের প্রশাসনিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বয়ং রেফারি বোর্ডের ভেতরের জালিয়াতি উৎখাতের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। একের পর এক এমন নজিরবিহীন কেলেঙ্কারিতে তুর্কি লিগের স্বচ্ছতা নিয়ে আবারও বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।

এনএন/ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language