জাতীয়

ইসলামী মূল্যবোধ কীভাবে ছড়াতে হয়, জামায়াতকে তা হেফাজতের কাছে গিয়ে শেখা উচিত: রাশেদ খান

ঢাকা, ০২ অক্টোবর – বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকা, কৌশল ও চিন্তাভাবনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি মন্তব্য করেছেন, ইসলামী মূল্যবোধের সঠিক প্রচার ও চর্চা কীভাবে করতে হয়, তা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে জামায়াতের শেখা উচিত।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলূম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাশেদ খান। সাক্ষাৎ শেষে বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

‘জান্নাতের টিকিট বিক্রি’ বনাম প্রকৃত ইসলামী মূল্যবোধ

রাশেদ খান বলেন, দেশের ইসলাম প্রচার, ঐতিহ্য রক্ষা ও সাধারণ মানুষকে সঠিক দ্বীনি শিক্ষা প্রদানে হেফাজতে ইসলাম শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এর বিপরীতে জামায়াতের রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন:

“আমি মনে করি, যারা ইসলামের কথা বলছে—বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী—তাদের আমি পরামর্শ দেব যে ইসলামী মূল্যবোধের প্রচার কীভাবে করতে হয়, সেটা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে আপনারা শেখেন। আপনারা ইসলাম থেকে, ইসলামী মূল্যবোধ থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গিয়েছেন। এটি জামায়াতের কাছ থেকে দেশের জনগণ প্রত্যাশা করে না।”

নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ‘জান্নাতের টিকিট’ বিতরণের নামে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে প্রথম সোচ্চার হয়ে হেফাজত আমির মানুষকে সচেতন করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

Long March নিয়ে প্রশ্ন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বার্তা

হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাশেদ খান জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সফল করতে এবং রাষ্ট্রকে সঠিক ট্র্যাকে ফেরাতে সবার সহযোগিতা করা উচিত বলে হেফাজত প্রধান মত প্রকাশ করেছেন।

একই সঙ্গে গণ-অভ্যুত্থানের মাত্র সাত মাসের মাথায় সরকারের বিরুদ্ধে ‘লং মার্চ’-এর মতো সংঘাতময় কর্মসূচি ডাকার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাশেদ খানের মতে, যেসব রাজনৈতিক দল ও সমাজিক গোষ্ঠী আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারকে পরাস্ত করেছিল, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এই সময়ে তাদের বিভক্ত না হয়ে একতাবদ্ধ থাকাই দেশ ও জনগণের স্বার্থে সবচেয়ে জরুরি।

এনএন/ ০২ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language