জাতীয়

হামে আক্রান্ত পৌনে ২ লাখ, প্রাণহানি ১১০০ ছাড়ালো: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জনের মৃত্যু

বাংলাদেশে হাম প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসা
বাংলাদেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু। ২ অক্টোবরের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী মোট মৃত্যু ১,১১৪।

ঢাকা, ০২ অক্টোবর – দেশজুড়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে হাম ও হামের উপসর্গ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই মারণব্যাধি ও এর উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৪২ জন রোগী। এতে করে সারাদেশে সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ বুলেটিনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এক নজরে প্রাণহানি ও আক্রান্তের পরিসংখ্যান

স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত একদিনে মারা যাওয়া ৪ জনের মধ্যে ৩ জনই ঢাকা বিভাগের এবং তারা হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া একই বিভাগে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

মোট প্রাণহানি: গত ১৫ মার্চ থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ১২ জন।

আক্রান্তের সংখ্যা: গত সাড়ে ছয় মাসে সারাদেশে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় এর মধ্যে ২১ হাজার ৬২৩ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হাসপাতাল ও সুস্থতা: গত ১৫ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ২১ জন রোগী। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন হাজার হাজার আক্রান্ত।

কেন বাড়ছে সংক্রমণ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের হার হ্রাস পাওয়া এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করাই এই মৃত্যুর মিছিল বাড়ার মূল কারণ। শিশু এবং কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যেই এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

আক্রান্তদের স্রেফ সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীদের আইসোলেশনে রাখা এবং সরকারি ইপিআই সূচি অনুযায়ী শিশুদের যথাসময়ে হামের টিকা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

এনএন/ ০২ অক্টোবর ২০২৬




FAQ

বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা কী?

২ অক্টোবর ২০২৬-এর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে দেশে ১,৯৪,০৮৪টি সন্দেহভাজন কেস এবং ২১,৬২৩টি ল্যাব-নিশ্চিত হাম কেস নথিভুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশে হাম ও হামের উপসর্গে কতজন মারা গেছেন?

১৫ মার্চ থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১,১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০২টি নিশ্চিত হামজনিত এবং ১,০১২টি সন্দেহভাজন মৃত্যু।

গত ২৪ ঘণ্টায় কতজন মারা গেছেন?

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চারটি মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে—তিনটি সন্দেহভাজন এবং একটি নিশ্চিত হামজনিত।

গত ২৪ ঘণ্টায় কত নতুন কেস পাওয়া গেছে?

১,২২১টি নতুন সন্দেহভাজন কেস এবং ২১টি নতুন ল্যাব-নিশ্চিত কেস পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মোট নতুন কেস ১,২৪২।

হাম নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে?

সরকার WHO, UNICEF ও Gavi-র সহযোগিতায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালিয়েছে এবং নিয়মিত টিকাদানের আওতার বাইরে থাকা শিশুদের টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

হামের ক্ষেত্রে কী করা উচিত?

হামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

Back to top button
🌐 Read in Your Language