উত্তর আমেরিকা

ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের ক্ষতিপূরণ মেটানো হবে ইরানের জব্দ করা অর্থ দিয়ে: ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ২৪ জুলাই – ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে হুতিদের হামলায় জাহাজ বা কার্গোর যেকোনো ক্ষয়ক্ষতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ব্যবহার করা হবে।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্ট করেন যে এখন থেকে জাহাজ বা কার্গো সংক্রান্ত যেকোনো ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের তহবিল থেকে প্রদান করা হবে। তিনি এই পদক্ষেপকে ন্যায্য ও সঠিক হিসেবে অভিহিত করেন।

তবে এই অর্থ সরাসরি শিপিং কোম্পানিগুলোকে প্রদান করা হবে কি না সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। গত দুই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান সমর্থিত হুতিদের এই হামলার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ইরানের প্রায় ২০০ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ জব্দ অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়াও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে যার পরিমাণ ২৪ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে গত জুন মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই চুক্তিতে জব্দকৃত অর্থ অবমুক্ত করা এবং ইরানে ৩ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ছিল।

তবে চলমান সংঘাতের ফলে সেই শান্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কয়েক দশক ধরে ইরানের মদদপুষ্ট হামলার শিকার ব্যক্তিরা এই জব্দকৃত অর্থ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পূর্ববর্তী সকল কূটনৈতিক সমঝোতা এখন ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এস এম/ ২৪ জুলাই ২০২৬


Back to top button