টাইপিংয়ের এক ভুলেই পেন্টাগনের হিসাবে বড় গোলমাল, অডিট নিয়ে বিপাকে মার্কিন সেনাবাহিনী

ওয়াশিংটন, ২৩ জুলাই – টাইপিংয়ের একটি ছোট ভুল বা নথিতে অতিরিক্ত শূন্য বসানোর মতো সামান্য ঘটনা যে কত বড় অর্থনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের সাম্প্রতিক তদন্তে তার প্রমাণ মিলেছে।
সংখ্যার ০ বা শূন্যের জায়গায় ভুলবশত ইংরেজি বর্ণ O টাইপ করার কারণে নথিপত্রে হঠাৎ করেই মার্কিন সেনাবাহিনীর মোট যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রথমবারের মতো নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা বা অডিট সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে পেন্টাগন।
সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়েই সামরিক বাহিনীর এই ধরনের বিভিন্ন তথ্যগত ত্রুটি সামনে আসতে শুরু করেছে। প্রতি বছর প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট পরিচালনা করে পেন্টাগন। ১৯৯০ সালে অডিট আইন পাস হলেও ২০১৮ সাল থেকে টানা আটবার এই প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি।
গত ডিসেম্বরে অষ্টম অডিটে ব্যর্থ হওয়ার পর পেন্টাগন ২০২৮ সালের মধ্যে একটি পরিষ্কার অডিট রিপোর্ট নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে। দীর্ঘদিনের এই সংকট কাটাতে বর্তমানে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০১৯ সালে সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত ১৩শ এর বেশি আলাদা ব্যবসায়িক ও আর্থিক সিস্টেম কমিয়ে বর্তমানে প্রায় ২০০টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম একক জায়গায় পর্যবেক্ষণের জন্য আর্মি ফিসক্যাল ফ্রন্টলাইন নামের একটি আধুনিক ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড চালু করা হয়। এর মাধ্যমে তথ্য মেলাতে গিয়েই বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা নানান গোলমেলে হিসাব ধরা পড়ে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর আর্থিক পরিচালনা ও হিসাব বিভাগের পরিচালক নাতাশা অ্যান্ডারসন জানান, যানবাহন মেরামতের তথ্য ইনপুট দেওয়ার সময় কর্মীরা ০ এর বদলে ও বা O অক্ষরটি টাইপ করায় মূল সিস্টেম সেটিকে বিদ্যমান গাড়ির বদলে একদম নতুন একটি গাড়ি হিসেবে নথিভুক্ত করে।
এর ফলে বহরে বাস্তবে যত ট্রাক বা গাড়ি ছিল, নথিপত্রে তার চেয়ে অনেক বেশি দেখা যায়। একইভাবে ব্যারাক, হাসপাতাল ও সামরিক ঘাঁটির অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নথিতে আয়তন বা খরচের তথ্যে অতিরিক্ত শূন্য যুক্ত হওয়া কিংবা বাদ পড়ার কারণে বাজেটের বরাদ্দেও বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হচ্ছিল।
এর ফলে যেখানে যত টাকা পাওয়ার কথা ছিল, তথ্যের ভুল থাকায় বরাদ্দ মিলছিল অন্য অংকের। সেনাবাহিনীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মার্ক অ্যান্ডারসন জানান, নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে এখন মাঠপর্যায়ের সেনা ইউনিট থেকে শুরু করে পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা রিয়েল-টাইমে সামরিক বাহিনীর অর্থনৈতিক চিত্র দেখতে পাচ্ছেন।
তবে কেবল ভুল চিহ্নিত করাই শেষ কথা নয়, ভবিষ্যতে এই ধরনের মানবিক ভুলগুলো রোধ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
এস এম/ ২৩ জুলাই ২০২৬









