মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে ইরানের আইআরজিসির চরম হুঁশিয়ারি

তেহরান, ১৮ জুলাই – ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। বাহিনীটি সতর্ক করে জানিয়েছে, যেসব দেশ মার্কিন সেনা বা ঘাঁটির জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে, তাদের সম্ভাব্য সমতুল্য পাল্টা জবাবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
একই সঙ্গে ওই দেশগুলোর সরকারকে তাদের নাগরিকদের সুরক্ষায় জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসি। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক প্রতিবেদনে জানায়, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে যে বিভিন্ন দেশের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উচিত সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু থেকে সাধারণ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করা। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা প্রয়োজন।
এদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের স্থল বাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লজিস্টিকস কেন্দ্র ক্যাম্প আরিফজানে হামলা চালিয়েছে। বাহিনীটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে ওই হামলায় মার্কিন সেনাসদস্যদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
তবে এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামলায় ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং একটি অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার ও ড্রোন পরিচালনা কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে।
তবে কুয়েত বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
এস এম/ ১৮ জুলাই ২০২৬









