ফুটবল

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল: এক টিকিটের দাম ৮ লাখ টাকা ছাড়ালো

ওয়াশিংটন, ১৭ জুলাই – ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে বইছে তীব্র উত্তেজনা। স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই মহারণ দেখার টিকিটের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

বর্তমানে স্টেডিয়ামে প্রবেশের জন্য সবচেয়ে সাধারণ মানের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৩৮০ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ লাখ টাকারও বেশি। পিচের কাছাকাছি বা প্রথম সারির ক্যাটাগরি ১ টিকিটগুলোর দাম ১৯ হাজার ৯৯৫ থেকে শুরু করে প্রায় ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।

এছাড়া ভিআইপি ও করপোরেট হসপিটালিটি প্যাকেজগুলোর মূল্য মাথাপিছু প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে যা এই ফাইনালকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া ইভেন্টে পরিণত করেছে। সবচেয়ে বড় কাণ্ড ঘটছে ফিফা অনুমোদিত অফিশিয়াল রিসেল বা পুনর্বিক্রয় বাজারে। এখানে বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণ করতে পারছেন।

কয়েক মাস আগে মাঠের ঠিক পেছনে লোয়ার বোলের চারটি টিকিটের প্রতিটির দাম রেকর্ড ২৩ লাখ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। ফাইনালের ঠিক আগে ফিফার পোর্টালে এই টিকিটের দাম সাড়ে সাত হাজার ডলার থেকে শুরু করে অবিশ্বাস্য ১ কোটি ১৫ লাখ ডলার পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।

আসলে এই ফাইনালের কোনো নির্দিষ্ট অফিশিয়াল দাম নেই এবং টিকিটের ক্যাটাগরি ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ফিফা প্রতিটি স্তরে বিপুল মুনাফা অর্জন করছে। প্রথমবারের বিক্রির পর রিসেল মার্কেটে টিকিট বিক্রির সময় ফিফা বিক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং ক্রেতার কাছ থেকেও সমপরিমাণ ফি আদায় করে।

অর্থাৎ একই টিকিট থেকে তিনবার রাজস্ব পকেটে ভরছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তবে এই রমরমা বাণিজ্যের মাঝেই আইনি জটিলতায় পড়েছে ফিফা। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট আদালত এক নিষেধাজ্ঞায় ফিফার রিসেল প্ল্যাটফর্মের কিছু কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন।

পাশাপাশি নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলরা মেটলাইফ স্টেডিয়ামের টিকিট বিক্রির নানা অসংগতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। ডেমোক্রেটিক অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিতিয়া জেমসের অভিযোগ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

অনেক ভক্ত দামি টিকিট কিনলেও শেষ পর্যন্ত তাদের তুলনামূলক কম সুবিধাজনক আসনে বসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই অনৈতিক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসন এখন বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

এস এম/ ১৭ জুলাই ২০২৬


Back to top button