ফুটবল

নরওয়েজীয় সমর্থকদের ‘ভাইকিং রো’ উল্লাস নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক

অসলো, ১১ জুলাই – চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নরওয়ের ফুটবল সমর্থকদের ‘ভাইকিং রো’ নামক বিশেষ উদযাপন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গ্যালারিতে হাজারো সমর্থক একসঙ্গে বসে ভাইকিং যুদ্ধজাহাজের দাঁড় টানার ভঙ্গি করে এই উল্লাস করেন।

তবে এমিল ল্যাপেন নামের এক নরওয়েজীয় সমর্থক এই উদযাপনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তার মতে এই উদযাপনের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এমিল ল্যাপেন দাবি করেন যে ভাইকিংরা আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় মূলত পাল ব্যবহার করত।

দাঁড় টানার বিষয়টি ছিল মূলত নদীপথ বা উপকূলীয় এলাকায় অভিযানের সময়ের কৌশল। ইতিহাসবিদদের একটি বড় অংশ ল্যাপেনের এই যুক্তির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী দাঁড় টানার সঙ্গে প্রাচীন বীরত্বের চেয়েও নৃশংসতার যোগসূত্র রয়েছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে সমুদ্রযাত্রায় বাতাসের অভাব হলে যুদ্ধবন্দী ও ক্রীতদাসদের শিকলে বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় টানতে বাধ্য করা হতো। গবেষকদের মতে উপকূলীয় এলাকায় ভাইকিংদের জাহাজ দাঁড় টেনে এগিয়ে আসার অর্থই ছিল সম্ভাব্য লুটপাট ও হামলার সংকেত।

এই কারণে বর্তমান ফুটবল গ্যালারির এই আনন্দ উদযাপনের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এছাড়া সমালোচকদের মতে এই ‘ভাইকিং রো’ নরওয়ের নিজস্ব ফুটবল সংস্কৃতির অংশ নয় বরং এটি ২০১৬ সালে আইসল্যান্ডের জনপ্রিয় ‘থান্ডার ক্ল্যাপ’ উদযাপনের একটি অনুকরণ মাত্র।

কারো কারো মতে এই ভঙ্গিটি ফুটবল মাঠে আসার আগে হেভি মেটাল কনসার্টের দর্শকদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। সব মিলিয়ে নরওয়েজীয় সমর্থকদের এই উদযাপন এখন ফুটবল ছাপিয়ে ঐতিহাসিক বির্তকের রূপ নিয়েছে।

এস এম/ ১১ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language