যুক্তরাষ্ট্র যদি তেলের চড়া দাম চায়, তবে ইরান তাকে স্বাগত জানায়

তেহরান, ৯ জুলাই – যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন হামলার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক এবং আরও ব্যাপক আকারে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের একটি উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান উত্তেজনার আগেই ইরান তার এই কঠোর অবস্থানের কথা ওয়াশিংটনকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল।
মার্কিন আগ্রাসন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে ওই সূত্রটি মন্তব্য করেছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তেলের উচ্চমূল্য চান, তবে তেহরান তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো আঘাতের ফলাফল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
তেহরানে অবস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে এটিই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা। এই মার্কিন হামলায় বিশেষ করে দক্ষিণ ইরানের চাবাহার বন্দর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চাবাহার বন্দরের দুটি সামুদ্রিক জেটি এবং একটি নেভিগেশন কন্ট্রোল টাওয়ারসহ বেশ কিছু বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইমাম আলী হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চাবাহার ছাড়াও কোনারাক, সিরিক, জাস্ক, বুশেহর প্রদেশ এবং আবু মুসা দ্বীপে মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই আগ্রাসনের পরপরই ইরান পাল্টা জবাবের প্রথম ধাপ শুরু করেছে। ইরানের বিভিন্ন বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী কুয়েত এবং বাহরাইনের আরিফজান, আলী আল সালেম, জুফায়ার এবং শেখ ঈসা ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় আগ্রাসন চালায়, তবে এই অঞ্চলের অন্য সব মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা আরও জোরদার করা হবে।
এস এম/ ৯ জুলাই ২০২৬









