জাতীয়

আগামী সংসদ নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে: আইনমন্ত্রী

ঢাকা, ৯ জুলাই – সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া ঐতিহাসিক রায়টি বহাল রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্বহাল হতে যাচ্ছে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান।

দীর্ঘ আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে আদালত এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। সর্বোচ্চ আদালতের এই আদেশের পর সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করেছেন যে দেশের আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে।

আইনমন্ত্রী এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে এটি কেবল একটি আইনি বিজয় নয় বরং বর্তমান সরকারের একটি সুদৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা মূলত বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের একটি ফসল এবং এই রায়ের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ পুরোপুরি সুগম হলো।

অন্যদিকে রায় ঘোষণার পরপরই অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল রায়ের আইনি ব্যাখ্যায় জানান যে পঞ্চদশ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের পর হাইকোর্ট যে পর্যবেক্ষণগুলো দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ আপিলগুলো খারিজ করে দেওয়ায় সেই পর্যবেক্ষণসহ পুরো রায়টি এখন বহাল থাকল।

হাইকোর্টের রায়ের মূল ভিত্তি ছিল সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল রোধে যুক্ত করা সংবিধানের ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ বাতিল করা। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়টিই চূড়ান্ত আইনি বৈধতা পেল।

এর আগে ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সংসদের মাধ্যমে সংবিধানের এই পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করেছিল যার অধীনে ৫৪টি ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল যা পরবর্তীতে দেশে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে।

তবে ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট বাতিলের জন্য দায়ী তৎকালীন আইনের ২০ ও ২১ নম্বর ধারা সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে হাইকোর্টের এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি এর বিরুদ্ধে আপিল করার আবেদন জানালে আজ সেই আপিলগুলো চূড়ান্তভাবে খারিজ হয়ে গেল যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু করল।

এস এম/ ৯ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language