উত্তর আমেরিকা

স্থায়ী সমাধান ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি টিকবে না: সিনা আজোদি

ওয়াশিংটন, ৮ জুলাই – যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বর্তমান যুদ্ধবিরতি কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয় বরং সাময়িকভাবে সংঘাত বন্ধের একটি চেষ্টা মাত্র। একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এই যুদ্ধবিরতি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডল ইস্ট স্টাডিজ প্রোগ্রামের পরিচালক সিনা আজোদি।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই শঙ্কার কথা জানান। সিনা আজোদি বলেন যে যতক্ষণ পর্যন্ত একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি না হচ্ছে ততক্ষণ ছোটখাটো সংঘর্ষ বা ভুল বোঝাবুঝি থেকে দেশ দুটির মধ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এই সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত ১৮ জুন দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। তবে এর মাত্র ২০ দিনের মাথায় চুক্তিটি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলে ইরানে শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে ইরানের এই আচরণ যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সামরিক এই পদক্ষেপের ঠিক আগেই মার্কিন প্রশাসন ইরানের তেল বিক্রির ওপর দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাতিল করে দেয়। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তেল বিক্রির ছাড় বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের ১০ নম্বর শর্ত ভঙ্গ করেছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে মার্কিন প্রশাসনকে বিশ্বাস করা যায় না। বর্তমানে দুই দেশেই এই সমঝোতা চুক্তির বিরোধিতাকারীরা সক্রিয় রয়েছেন। ইরানে কিছু বিক্ষোভকারী শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের শাস্তির দাবি তুলেছেন।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করছেন রিপাবলিকান দলের বেশ কয়েকজন নেতা। তবে সিনা আজোদি মনে করেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সমঝোতা স্মারকটি একটি বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত ছিল।

এটি সাময়িকভাবে যুদ্ধ বন্ধ করেছে এবং মানুষের প্রাণ বাঁচানোর পাশাপাশি তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা এনেছিল। তবে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।

এস এম/ ৮ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language