উত্তর আমেরিকা

শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের রোটা দ্বীপ

ওয়াশিংটন, ৬ জুলাই – চলতি বছরের দ্বিতীয় শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলে ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে। শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের রোটা দ্বীপে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, সোমবার সকালে ক্যাটাগরি পাঁচ হারিকেনের সমতুল্য এই সুপার টাইফুনটি প্রায় দুই হাজার জনসংখ্যার রোটা দ্বীপের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৮০ মাইলেরও বেশি।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রোটা দ্বীপে ঘণ্টায় ১৫০ মাইলের বেশি বেগে ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন প্রবল বাতাসের কারণে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতে পারে। এছাড়া গাছপালা এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগ থেকে আকস্মিক বন্যার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি গুয়াম দ্বীপ থেকে প্রায় ৫০ মাইল উত্তরে অবস্থান করছে। গুয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি অ্যান্ডারসেন এয়ারফোর্স বেস অবস্থিত। সেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক বি এক, বি দুই এবং বি ৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়া গুয়ামে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি স্থায়ী সাবমেরিন ঘাঁটিও আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে গুয়ামে থাকা প্রায় সাত হাজার মার্কিন সেনাসদস্যসহ প্রায় দেড় লাখ বাসিন্দাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে রোটা দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত সাইপান ও টিনিয়ান দ্বীপের বাসিন্দারাও নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে সুপার টাইফুন সিনলাকু এই অঞ্চলে আঘাত হেনেছিল। সেই ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়ল দ্বীপগুলো। ঐতিহাসিক টিনিয়ান দ্বীপটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সেখানে গুয়ামের বিকল্প হিসেবে একটি বড় সামরিক ঘাঁটি তৈরির কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

এস এম/ ৬ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language