মাত্র ২ দিনেই ‘বাংলা কিউআর’-এ ২২ কোটি টাকার রেকর্ড লেনদেন!

ঢাকা, ২ জুলাই – ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটে গেছে। ক্যাশলেস বা নগদহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে চালু হওয়া সমন্বিত পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) এর মাধ্যমে মাত্র দুই দিনেই কোটি কোটি টাকার রেকর্ড লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। লেনদেনের এই জোয়ার প্রমাণ করছে যে, দেশের মানুষ এখন পকেটে নগদ টাকা রাখার চেয়ে স্মার্ট পেমেন্টেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চমকপ্রদ ও আশাজাগানিয়া তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মাত্র ৪৮ ঘণ্টার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ৩০ জুন এবং ১ জুলাই—এই মাত্র দুই দিনে জাতীয় পেমেন্ট অবকাঠামো ভিত্তিক ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে গ্রাহকরা রেকর্ড পরিমাণ কেনাকাটা ও লেনদেন করেছেন।
মোট লেনদেনের সংখ্যা: ২ দিনে মোট ৭৭ হাজার ১৬৫টি সফল লেনদেন হয়েছে।
মোট আর্থিক পরিমাণ: এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২২ কোটি ২ লাখ টাকা আদান-প্রদান করা হয়েছে।
বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহারকারী সাধারণ গ্রাহকরা দোকানে বা মার্চেন্ট পয়েন্টে গিয়ে এই কিউআর কোড স্ক্যান করে তাদের পেমেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।
নেই কোনো অতিরিক্ত খরচ, ১ কিউআর-এই সব সমাধান!
অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, এই ডিজিটাল কিউআর কোড ব্যবহার করলে কি বাড়তি কোনো টাকা বা ভ্যাট কাটবে? এই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, “বাংলা কিউআর ব্যবহারে গ্রাহকদের কোনো ধরনের অতিরিক্ত খরচ বা বাড়তি চার্জ বহন করতে হবে না। একবার কিউআর কোড স্ক্যান করেই একদম বিনামূল্যে ও সহজে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। ডিজিটাল লেনদেনকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বড় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।”
কী এই বাংলা কিউআর?
এটি একটি আন্তঃসংযোগযোগ্য (Interoperable) কিউআর ব্যবস্থা। আগে দেখা যেত বিকাশের জন্য আলাদা কিউআর, রকেটের জন্য আলাদা বা নির্দিষ্ট ব্যাংকের জন্য আলাদা কিউআর কোড টেবিল বা দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখতে হতো। কিন্তু ‘বাংলা কিউআর’ আসার পর এখন আর ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের দোকানে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পৃথক কিউআর কোড রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। একটিমাত্র ‘বাংলা কিউআর’ কোড থাকলেই যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করে টাকা দেওয়া যাবে।
শক্তিশালী হচ্ছে ডিজিটাল অর্থনীতি
ব্যাংক খাত ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলা কিউআরের ব্যবহার যত দ্রুত মাঠপর্যায়ে ছড়াবে, দেশের অর্থনীতিতে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা ততটাই কমবে। মুদি দোকান, কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে বড় শপিংমল—সব জায়গায় এই ব্যবস্থা ছড়িয়ে দেওয়াই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। এর ফলে লেনদেন যেমন স্বচ্ছ হবে, তেমনি দেশ আরও দ্রুত ক্যাশলেস ইকোনমির দিকে এগিয়ে যাবে।
এনএন/ ২ জুলাই ২০২৬









