মৌলভীবাজার

কুলাউড়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ

মৌলভীবাজার, ২৮ জুন – মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য প্রণীত তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে ওই তালিকায় প্রবাসী, বিত্তবান এবং কৃষিকাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নামও দেখা গেছে যাদের নিজস্ব কোনো কৃষিজমি নেই কিংবা বন্যায় যাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এছাড়া সচ্ছল প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৩ জুন বরমচাল ও ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে বিএনপির নেতা ও ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন বঞ্চিতরা।

দাউদপুর ও সাতরাসহ বিভিন্ন গ্রামের বিত্তবান ও প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের নাম তালিকায় থাকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এমনকি বোরো মৌসুমে আবাদ না করেও সহায়তা পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে বরমচাল ইউনিয়নেও। সেখানেও জমি না থাকা সত্ত্বেও এবং প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি সহায়তা পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ এই অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরিবারপ্রতি ১৫ কেজি চাল ও ৩ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কুলাউড়ার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১ হাজার ৫৩৭ জন কৃষকের জন্য এই সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, বরাদ্দ কম থাকায় কিছু প্রকৃত কৃষকের নাম বাদ পড়তে পারে। তবে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়টি নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদারকি করা হবে।

এস এম/ ২৮ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language