ইউরোপে রেকর্ড ভাঙা গরমে মৃত্যুমিছিল, ফ্রান্সে রেড অ্যালার্ট ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়

প্যারিস, ২৪ জুন – রেকর্ডভাঙা তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পুরো ইউরোপ। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে চরম গরমে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
ফরাসি আবহাওয়া দপ্তর মেতেও ফ্রান্স জানিয়েছে যে দেশের অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বুধবার দেশটির দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার ফ্রান্সের ইতিহাসের সবচেয়ে গরম দিন রেকর্ড করা হয় যেখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমনকি গত সোমবার রাতটি ছিল দেশটির ইতিহাসের উষ্ণতম রাত।
তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুতের গ্রিডে অতিরিক্ত চাপের ফলে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলের প্রায় ৬৮ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে স্থানীয় সময় বুধবার রাতের আগে সেখানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। দাবদাহের প্রভাব পড়েছে প্যারিসের বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও।
দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত চাপ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে ঐতিহাসিক ভবনগুলো মানিয়ে নিতে না পারায় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাদুঘর ল্যুভর চলতি সপ্তাহে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া আইফেল টাওয়ারও মঙ্গলবার ও বুধবার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আগেভাগেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
ফ্রান্সের শ্রমমন্ত্রী জঁ পিয়ের ফারান্দু এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেন যে পুরো সমাজ ব্যবস্থাকেই এখন এই নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হবে।
চরম গরম থেকে বাঁচতে নদী বা সমুদ্রে সাঁতার কাটতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত ফ্রান্সে অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে গিরোন্দে এলাকায় সৈকতে ডুবে যাওয়া ৬ বছরের এক শিশু ও প্যারিসের উপকণ্ঠে নদীতে সাঁতার কাটতে যাওয়া এক কিশোরী রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহের কারণে বনাঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মেইন এট লোয়ার অঞ্চলের বনে লাগা আগুন নেভাতে দেড় শতাধিক দমকল কর্মীকে মোতায়েন করতে হয়েছে।
ফ্রান্সের পাশাপাশি স্পেনেও জুনের গরমের গত ৭৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে গেছে। ইতালির ১৬টি প্রাদেশিক রাজধানীতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে জারি করা হয়েছে অরেঞ্জ অ্যালার্ট। যুক্তরাজ্যেও বিরল রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়লেও ইউরোপ মহাদেশ সবচেয়ে দ্রুত গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ।
এনএন/ ২৪ জুন ২০২৬









