জাতীয়

আবাসন খাতে স্থবিরতা: নতুন কর ও নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধিতে চরম সংকটে উদ্যোক্তারা

ঢাকা, ২৪ জুন – রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও ফ্ল্যাট বিক্রিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশেষ করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঐশী প্রপার্টিজের ছয়টি প্রকল্পে ৯৬টি অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত থাকলেও গত কয়েক মাসে একটিও বিক্রি করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন,

দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন করের বোঝা এই খাতকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ঐশী প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান মো. আইয়ূব আলী জানান, গত পাঁচ মাসে তাদের একটিও ফ্ল্যাট বিক্রি হয়নি। অথচ স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে অন্তত দুই থেকে তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হওয়ার কথা ছিল।

তার মতে, নির্বাচনের পর পরিস্থিতির উন্নতির আশা থাকলেও বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং নতুন করে কর আরোপের ফলে আবাসন ব্যবসায় টিকে থাকা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নির্মাণসামগ্রীর ওপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এছাড়া ডেভেলপারদের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাটের ওপর জমির মালিকদের ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এই কর আরোপের ফলে প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

আবাসন ব্যবসায়ীরা জানান,

২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে। প্রথম সারির কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদে অন্যদের বিক্রি প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রড ও বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে,

নতুন কর কাঠামো ও বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা বাড়তে পারে।

বিএসআরএমের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত বলেন,

বিদ্যুতের দাম ও কর কাঠামোর পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি গ্রাহকের ওপর পড়বে।

শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠান শেলটেকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বলেন,

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। জমির মালিকদের ওপর করের বোঝা আবাসন খাতের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং ফ্ল্যাটের নিবন্ধন কমিয়ে দেবে। এতে করে সরকারের রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এম/ ২৪ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language