মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে ইরানিদের পাঠানোর পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

ওয়াশিংটন, ১৩ জুন – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানোর একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দারিদ্র্যের মধ্য থাকা এই দেশটিতে মূলত সেইসব অভিবাসীদের পাঠানো হবে যাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো আইনিভাবে সম্ভব নয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট দুই আইনজীবী ও এক মার্কিন কর্মকর্তা।
মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানোর তালিকায় থাকা ইরানি নাগরিকদের মধ্যে এমন দুজন নারী রয়েছেন যারা ইরানে ফেরত গেলে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। তাদের আইনজীবী এমিলি ট্রস্টল জানান যে এই দুই নারীর মধ্যে একজন খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছেন এবং অন্যজন গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন।
পরবর্তীতে মার্কিন বিচার বিভাগ তাদের উইথহোল্ডিং অব রিমুভাল নামক আইনি সুরক্ষা প্রদান করে। এই সুরক্ষার নিয়ম অনুযায়ী কোনও ব্যক্তিকে নিজ দেশে পাঠানো হলে যদি তার নিপীড়িত হওয়ার আশঙ্কা ৫০ শতাংশের বেশি থাকে তবে তাকে সেখানে পাঠানো যায় না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে এই চুক্তির আওতায় প্রথম ফ্লাইটে ইরান ছাড়াও সিরিয়া ও আফগানিস্তানের অন্তত ২০ জন নাগরিক থাকতে পারেন। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে ফ্লাইটটি যাত্রার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এতে একজন তুর্কি নাগরিকও থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
তুরস্কের ওই নাগরিকও নিজ দেশে রাজনৈতিক নিপীড়নের ভয়ের কথা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তি সই করেছে। এই চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রহণ করবে দেশটি। এর আগে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য এই চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নির্বাসিত ব্যক্তিদের মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাঙ্গুইয়ের কিছু অ্যাপার্টমেন্টে রাখা হবে এবং তাদের অবিলম্বে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে যে প্রত্যেকটি নির্বাসন প্রক্রিয়ায় পূর্ণ আইনি ধাপগুলো অনুসরণ করা হচ্ছে।
এনএন/ ১৩ জুন ২০২৬









