ইরানের হামলার আশঙ্কায় আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা কুয়েতের

কুয়েত শহর, ১১ জুন – কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আকস্মিক ড্রোন হামলার পর এবার এক নজিরবিহীন ও চরম পদক্ষেপ নিল কুয়েত সরকার। উদ্ভূত যুদ্ধাবস্থা এবং তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে দেশের আকাশসীমা সম্পূর্ণ ও সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কুয়েত।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে এক জরুরি বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কুয়েত সরকারের নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, আজ স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিট থেকে দেশের আকাশসীমা সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ লকডাউন বা বন্ধ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে আসা দেশি-বিদেশি সব ফ্লাইটকে মাঝ আকাশ থেকেই অন্য দেশের বিকল্প বিমানবন্দরের দিকে জরুরি ভিত্তিতে ডাইভার্ট বা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (Directorate General of Civil Aviation) এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, কুয়েতের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলা এবং এর ফলে আঞ্চলিক বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর যে মারাত্মক সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনা করেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার বিমানযাত্রীর জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে কুয়েত সরকার এই মুহূর্তে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও সামরিক কর্তৃপক্ষের চুলচেরা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং আকাশের এই যুদ্ধকালীন বিপদের কারণ পুরোপুরি দূর হয়ে গেলেই কেবল আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং বিমান চলাচল আবার স্বাভাবিক হবে।
কুয়েতের আকাশসীমা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পারস্য উপসাগরের আকাশ জুড়ে এখন চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কুয়েতগামী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাত্রীরা মাঝ আকাশেই জানতে পারেন যে তারা কুয়েতে নামতে পারছেন না, ফলে বিমানগুলোকে সৌদি আরব বা অন্যান্য নিরাপদ দেশের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কুয়েতে কর্মরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি। কুয়েতের সাথে বিমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় যারা ছুটিতে দেশে আসার অপেক্ষায় ছিলেন কিংবা যারা দেশ থেকে কুয়েত যাওয়ার টিকিট কেটেছেন, তারা এক অনিশ্চিত ও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েতের মতো একটি শান্ত ও নিরাপদ দেশের আকাশসীমা বন্ধ হওয়া প্রমাণ করে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের ওপর মার্কিন হামলা এবং তার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে আত্মঘাতী ড্রোন নিক্ষেপ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত এক বিশাল রণক্ষেত্র। কুয়েতের আকাশসীমা বন্ধের পর কাতার বা ওমানও একই পথ অনুসরণ করে কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এনএন/ ১১ জুন ২০২৬









