পৃথিবীর অধিকাংশ মিষ্টি পানিই মানুষের নাগালের বাইরে: চাঞ্চল্যকর তথ্য

ওয়াশিংটন, ৮ জুন – পৃথিবীতে পানির কোনো অভাব না থাকলেও পানের যোগ্য মিষ্টি পানির পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। বিশ্বের মোট পানিসম্পদের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র মিষ্টি পানি এবং এর সিংহভাগই নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে বরফ আকারে জমা হয়ে আছে যা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য একেবারেই সহজলভ্য নয়।
পৃথিবীর মোট তিন ভাগ পানি এবং এক ভাগ স্থল হলেও এর প্রায় ৯৬.৫ শতাংশই সমুদ্রের লোনা পানি। বাকি অংশের মধ্যে মাত্র ২.৫ শতাংশ মিষ্টি পানি। তবে এই স্বল্প পরিমাণ পানির একটি বড় অংশ মানুষের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্যমতে আন্টার্কটিকার বরফের চাদরে বিশ্বের মোট মিষ্টি পানির প্রায় ৭০ শতাংশ সঞ্চিত আছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা ইউএসজিএস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী পৃথিবীর মিষ্টি পানির প্রায় দুই তৃতীয়াংশের বেশি জমে আছে বিভিন্ন হিমবাহ ও আইস ক্যাপের মধ্যে। যদিও এটি শুনতে আশাব্যঞ্জক মনে হতে পারে তবে বাস্তবতা ভিন্ন। কারণ এই বরফের ভান্ডার বিশ্বের সর্বত্র সমানভাবে বিস্তৃত নয়।
পৃথিবীর মোট বরফের ৯০ শতাংশই আন্টার্কটিকায় এবং বাকি ১০ শতাংশ গ্রিনল্যান্ডে অবস্থিত। দক্ষিণ মেরুর এই দুর্গম অঞ্চলে মানুষের কোনো স্থায়ী বসতি নেই এবং এই বরফ স্তর কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত পুরু হওয়ায় তা সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব।
এছাড়া মিষ্টি পানির ৩০ শতাংশই ভূগর্ভস্থ পানি যা মাটির অনেক গভীরে থাকায় পাম্পের মাধ্যমে তুলে আনা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি এবং মার্কিন পরিবেশরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে ব্যবহারযোগ্য মিষ্টি পানির পরিমাণ মাত্র এক শতাংশ বা তারও কম।
তবে এর অর্থ এই নয় যে পৃথিবী পানিশূন্য হয়ে পড়ছে বরং এটি পানিসম্পদের অসম বণ্টনের বাস্তব চিত্র প্রকাশ করে। ভূপৃষ্ঠের ব্যবহারযোগ্য মিষ্টি পানির বেশিরভাগই ব্রাজিল, রাশিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, চীন, কলম্বিয়া এবং আমেরিকায় কেন্দ্রীভূত।
এস এম/ ৮ জুন ২০২৬









