সাতক্ষীরা সীমান্তে পুশইন আতঙ্ক: বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা

সাতক্ষীরা, ৪ জুন – ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ কর্তৃক নারী, পুরুষ ও শিশুদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম ও সার্বক্ষণিক নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।
পুশইনের এ খবরের জেরে সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিজিবি সূত্র জানিয়েছে,
সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনিবন্ধিত অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত কিছু ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মে থেকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেরাগাছি ও চন্দনপুর সীমান্তের বিপরীত পাশে ভারতের হাকিমপুর এলাকায় কয়েকশ মানুষকে জড়ো করার তথ্য পাওয়া যায়। ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বাদুড়িয়া থানার অন্তর্গত হাকিমপুর সীমান্তে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন মানুষকে জড়ো করেছে বিএসএফ।
বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী,
ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটির পুলিশ বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও সীমান্তে নেওয়া বাড়তি নিরাপত্তার কারণে বিএসএফের সেই প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত সফল হতে পারেনি বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান এ বিষয়ে জানান, সাতক্ষীরা সীমান্তের ৫৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দিন ও রাত বিরতিহীন টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্ট ও পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করা হয়েছে।
যে কোনো মূল্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পুশইনের আশঙ্কায় তারা গত কয়েকদিন ধরে বেশ আতঙ্কে রয়েছেন।
তারা সীমান্তে টহল আরও বাড়ানোর পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও সঠিক তথ্য আদানপ্রদান জরুরি বলে মনে করছেন নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা।
এস এম/ ৪ জুন ২০২৬









