মমতা ব্যানার্জীর অভিযোগ: বিজেপির হাতে মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দুরাও নির্যাতিত

কলকাতা, ২ জুন – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজনৈতিক আক্রমণের অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা ব্যানার্জী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে।
রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণ সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর সহিংসতার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেবল মুসলিমরাই নন, হিন্দুরাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
কালিঘাটের নিজস্ব বাসভবন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মমতা ব্যানার্জী উৎসব পালনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গবাদি পশুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের জীবিকা আজ হুমকির মুখে।
এছাড়া রাজ্যের প্রায় আড়াই হাজার দলীয় কার্যালয় ভেঙে ফেলা, মন্দির ও ঈদগাহ দখলের প্রচেষ্টাসহ মিশনারিদের তহবিল বন্ধ করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনেন তিনি। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই পশ্চিমবঙ্গকে বারবার টার্গেট করা হচ্ছে।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা এবং গণনাকেন্দ্রে কারচুপির বিষয়গুলো সামনে এনে মমতা ব্যানার্জী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর ওপর হওয়া হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রকৃত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সহযোগীদের গ্রেফতার করছে। রাজ্যের ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য তিনি বিজেপি নেতাদের দায়ী করেন।
এদিকে আগামী মঙ্গলবার কলকাতার রানি রাসমণি রোডে তৃণমূলের একটি অবস্থান কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। তবে পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি না দেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, প্রশাসন তাকে মঞ্চ গড়তে না দিলেও তিনি রাজপথেই বসে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই থেকে তিনি পিছু হটবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এনএন/ ২ জুন ২০২৬









