হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ‘তদন্ত কমিশন’ গঠনে হাইকোর্টের রুল

ঢাকা, ১৯ মে – সারাদেশে হামের ভয়াবহ রূপ ধারণ এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা অনুসন্ধানে কেন একটি ‘ইনকোয়ারি কমিশন’ (তদন্ত কমিশন) গঠন করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৯ মে) জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতের এই রুল জারির পর স্বাস্থ্য খাতসহ প্রশাসনের অন্দরমহলে বড় ধরনের ঝাঁকুনি লেগেছে। হাইকোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের এই রুলের জবাব দিতে হবে।
যাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে, তারা হলেন কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (DGHS) সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। শুনানি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সারাদেশে যে চলমান ‘চিলড্রেন ট্র্যাজেডি’ বা শিশুদের নিয়ে ট্র্যাজেডি চলছে, তার পেছনে কারা দায়ী? কেন রাষ্ট্র তার নাগরিকদের, বিশেষ করে শিশুদের জীবন সুরক্ষার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলো? এগুলো তদন্তের জন্যই একটি শক্তিশালী ইনকোয়ারি কমিশন কেন গঠন করা হবে না, সেই মর্মে রুল দিয়েছেন আদালত।”
এই রিট আবেদনটি গত রবিবার (১৭ মে) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম। রিট আবেদনে যে কারণটি উল্লেখ করা হয়েছে, তা শুনলে যে কেউ চমকে উঠবেন।
অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, সরকারের বিনামূল্যে দেওয়ার কথা যে জীবনরক্ষাকারী হামের টিকা, সেই টিকাদান ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় খাতের বাইরে নিয়ে কোনো এক অদৃশ্য স্বার্থে বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে! আর এই কারণে দেশের একটা বড় অংশের দরিদ্র শিশু সময়মতো টিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে শত শত তাজা প্রাণ দিয়ে।
ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যেই এই ভাইরাসের প্রকোপে সারাদেশে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার শিশু হাসপাতালে কাতরাচ্ছে।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রিট আবেদনে দুটি বড় দাবি করা হয়েছে:
১. একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা।
২. ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা।
উল্লেখ্য, এই রিট দায়ের করার আগে গত ৬ এপ্রিল সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে একটি আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সদুত্তর না মেলায় শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন এই আইনজীবী।
এনএন/ ১৯ মে ২০২৬









