কাপ্তাই হ্রদে আশঙ্কাজনক হারে কমছে পানি, রাঙ্গামাটির ৬ উপজেলায় নৌ যোগাযোগে সংকট

রাঙ্গামাটি, ১৮ মে – কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত কমে যাওয়ায় রাঙ্গামাটির নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। হ্রদের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ডুবোচর জেগে ওঠায় এবং নৌরুটগুলো অগভীর হয়ে পড়ায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বিকল্প হিসেবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্পিডবোটই যাত্রীদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী,
জেলার বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর, লংগদু ও বরকলসহ অন্তত ছয়টি উপজেলা মূলত এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। নাব্যতা সংকটের কারণে ইতোমধ্যে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি ও নানিয়ারচর রুটে লঞ্চ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বরকল ও লংগদু রুটে ছোট ছোট নৌযান চলাচল করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। দীর্ঘদিন ধরে হ্রদে খনন বা ড্রেজিং না হওয়ার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি কমলেই অসংখ্য ডুবোচর দৃশ্যমান হয় যা নৌযান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন এবং বিকল্প যানে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে কাঁচালং নদীর মতো এক সময়ের খরস্রোতা এলাকা এখন অনেক জায়গায় শীর্ণ নালায় পরিণত হয়েছে।
রাঙ্গামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনু উদ্দিন সেলিম জানিয়েছেন, শুষ্ক মৌসুম শুরু হতে না হতেই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে কমতে থাকে। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পানির এই নিম্নমুখী স্তরের কারণে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটি ইউনিটই এখন উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।
অবশ্য রাঙ্গামাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর হ্রদে ব্যাপক ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পিত খাল খননের মাধ্যমে নৌপথ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এস এম/ ১৮ মে ২০২৬









