শিক্ষা

আগামী বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কবে? জানালেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন

ঢাকা, ১৩ মে – দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটালেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। করোনা পরবর্তী সময়ে ওলটপালট হয়ে যাওয়া শিক্ষা পঞ্জিকা অবশেষে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। আগামী বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে তৈরি হওয়া সব ধোঁয়াশা কাটিয়ে বুধবার (১৩ মে) বিকেলে গাজীপুরের আইইউটি (IUT) ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণ এবং পাঠ্যক্রম শেষ করার সুবিধার্থে পরীক্ষার সময় কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৭ সালের জুন মাসে আয়োজন করা হবে।

এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ডিসেম্বরেই পাবলিক পরীক্ষা এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিল। তবে বুধবার সকালে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, এক বছরে ৪ মাস সময় কমিয়ে দিলে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ বাড়বে। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানুয়ারি ও জুনকে বেছে নিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী কেবল স্কুল-কলেজ নয়, উচ্চশিক্ষা নিয়েও বড় লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ের ভুলের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর জীবন থেকে যেন সময় নষ্ট না হয়, সেদিকে আমাদের কড়া নজর রয়েছে।” প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পরীক্ষাগুলো তার চিরচেনা পুরনো সূচিতে (ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিল) ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

গাজীপুরের বোর্ড বাজারে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি)-এর শ্রেষ্ঠত্ব পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মন্ত্রী। উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সেখানে তিনি আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার ওপর জোর দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না কমিয়ে ধাপে ধাপে সেশনজট নিরসন করা হচ্ছে। আমরা এমনভাবে সমন্বয় করছি যাতে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

এনএন/ ১৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language