মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলি তাণ্ডব: শিশু ও সেনাসহ একদিনেই প্রাণ হারালেন ১৩ জন

বৈরুত, ১৩ মে – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির এক মাস পার হতে না হতেই আবারও রক্তে রঞ্জিত হলো লেবাননের মাটি। মঙ্গলবার (১২ মে) দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক শিশু, উদ্ধারকর্মী এবং সেনাসদস্যসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এএফপির বরাতে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসরায়েলি বিমান বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের তিনটি পৃথক স্থানে ভয়াবহ হামলা চালায়। নাবাতিয়া শহর, এখানে একটি হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দুইজন বেসামরিক প্রতিরক্ষা উদ্ধারকর্মী (Civil Defense Workers) রয়েছেন। জেবচিত এলাকা, লেবাননের এক সেনাসদস্য এবং এক সিরীয় নাগরিকসহ চারজন প্রাণ হারিয়েছেন এই হামলায়। বিন্ট জেবাইলম সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে এখানে। ইসরায়েলি গোলার আঘাতে এক শিশু ও এক নারীসহ চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, তারা কেবল হিজবুল্লাহর অবকাঠামো ও ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করছে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটেনি।

এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল চলতি বছরের শুরুতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

এরপর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলে বড় ধরনের রকেট ও ড্রোন হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। জবাবে ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে এবং দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত অতিক্রম করে স্থল অভিযান চালায়। ইসরায়েলি বাহিনী এখনও লেবাননের ভূখণ্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা দখল করে রেখেছে এবং অসংখ্য গ্রাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, খামেনি হত্যার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু, অন্যদিকে ইসরায়েলের অনড় অবস্থান—সব মিলিয়ে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখন কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে বড় হয়ে।

এনএন/ ১৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language