দক্ষিণ আফ্রিকায় মির্জাপুরের প্রবাসী ব্যবসায়ী সুমনকে গুলি করে হত্যা

প্রিটোরিয়া, ১১ মে – সুদূর দক্ষিণ আফ্রিকায় আবারও প্রাণ গেল এক বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার অভিরামপুর গ্রামের যুবক সুমনকে (৩৫) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত ৫ ডিসেম্বর আমিনুল সিদ্দিকী নামে আরেক ব্যবসায়ী খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই তিন মাসের ব্যবধানে একই এলাকার আরেকজনের এমন করুণ মৃত্যুতে মির্জাপুরে এখন শোকের মাতম।
নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় দেশ ছেড়েছিলেন সুমন, কিন্তু ফিরছেন লাশ হয়ে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল? চলুন জেনে নিই বিস্তারিত।
নিজ গাড়িতেই পেতে রাখা হয়েছিল মৃত্যুফাঁদ!
ঘটনাটি ঘটেছে hlগত শনিবার (৯ মে) স্থানীয় সময় বিকেলে দক্ষিণ আফ্রিকার নিউক্যাসল শহরে। সুমন সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সফলভাবে ব্যবসা করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন তিনি নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে এটি নিছক ছিনতাই নাকি পূর্বপরিকল্পিত কোনো শত্রুতা, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
২ বছরের অবুঝ সন্তান আর বুকফাটা হাহাকার
নিহত সুমন মির্জাপুরের বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর গ্রামের মইজ উদ্দিনের ছেলে। মাত্র ৩ বছর আগে দেশে এসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তার ঘরে রয়েছে ২ বছরের একটি পুত্র সন্তান। বাবার ফেরার অপেক্ষায় থাকা শিশুটি এখন পিতৃহীন। রোববার ও সোমবার নিহতের বাড়িতে ভিড় করছেন শোকাতুর এলাকাবাসী। স্বজনদের কান্নায় ওই এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
মির্জাপুরে আতঙ্ক: ৩ মাসে ২ খুন!
এই হত্যাকাণ্ড মির্জাপুরের প্রবাসীদের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর আমিনুল সিদ্দিকী নামে মির্জাপুরের আরেক ব্যবসায়ীকে তার নিজ প্রতিষ্ঠানে ঢুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। একের পর এক এমন ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশের বক্তব্য ও মরদেহের অপেক্ষা
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর তারা নিহতের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছেন এবং সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন। নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে এবং প্রশাসন এ ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশিদের ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়, তবে একই এলাকার মানুষকে বারবার টার্গেট করা উদ্বেগের বিষয়। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক পর্যায়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
এনএন/ ১১ মে ২০২৬









