দাদনের জালে বন্দি চাঁদপুরের জেলেরা: পদ্মা ও মেঘনায় কমছে ইলিশের প্রাচুর্য

চাঁদপুর, ৯ মে – পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশের প্রাচুর্য কমে আসায় চাঁদপুরের জেলেরা চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিনের দাদন প্রথা থেকে বের হতে পারছেন না তারা। জেলেরা জানান, দাদন না নিলেও মাছ বিক্রির সময় আড়তদারদের নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিতে হয়। ফলে বাধ্য হয়েই তারা একাধিক মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে মাছ ধরতে নামছেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলার আনন্দ বাজার, দোকানঘর, সাখুয়া ও বহরিয়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দাদন বা ঋণের এই চক্র কয়েক দশক ধরে চলে আসছে। পঁচিশ থেকে ত্রিশ বছর আগে দাদনের পরিমাণ সামান্য থাকলেও বর্তমানে তা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সাখুয়া গ্রামের জেলে ওসমান ঢালী জানান, ৩০ বছর আগে তিনি মাত্র ৫০০ টাকা দাদন নিয়ে নৌকা তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে সেই ঋণের বোঝা অনেক বেড়েছে।
মাছ বিক্রি করতে গেলে আড়তদারদের ১০ শতাংশ কমিশন দিতে হয় বলে জানান তিনি। জেলেদের দাবি অনুযায়ী, দাদন ছাড়াও তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা প্রস্তুত করেন। মাছ বিক্রির উপার্জিত অর্থ দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করতে হয়। নদী ও সাগরে মাছ ধরা জেলে মো. হানু গাজী জানান, ইলিশের সংকট এবং প্রশাসনের অভিযানের মুখে গ্রেফতার হলে জামিন নিতে মহাজনদের মুখাপেক্ষী হতে হয়।
এতে দাদনের পরিমাণ প্রতি বছর বেড়েই চলে। এদিকে স্থানীয় মহাজনরা জানান, জেলেদের নৌকার মেরামত এবং শ্রমিকদের ধরে রাখতে তারা দাদন দিতে বাধ্য হন। বিনিময়ে মাছ বিক্রির ওপর ৫ শতাংশ কমিশন নেওয়া হয়। চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক এই প্রসঙ্গে বলেন, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য মৎস্য বিভাগ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উপকরণ প্রদান করছে। জেলেরা নিজেরা সচেতন না হলে এই ঋণের চক্র থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে।
এস এম/ ৯ মে ২০২৬









