মেয়ের বিচারের লড়াই এবার বিধানসভায়: পানিহাটিতে জয়ের পথে আর জি করের নির্যাতিতার মা

কলকাতা, ৪ মে – পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২৪ সালে আর জি কর হাসপাতালে নৃশংস শিকার হওয়া সেই তরুণী চিকিৎসকের মা, বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ এখন জয়ের সুনিশ্চিত পথে। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের এই দুর্গে পদ্ম শিবিরের এই জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন ‘মেয়ের বিচারের জন্য এক মায়ের লড়াইয়ের প্রতিফলন’ হিসেবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, পানিহাটি আসনে রত্না দেবনাথ তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের তীর্থঙ্কর ঘোষের চেয়ে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। এই আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে তৃণমূলের বড় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও, এবার সেখানে জনমতের বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
২০২৪ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনা কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, পুরো ভারতবর্ষকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। হাসপাতালের সুরক্ষিত অন্দরে চিকিৎসকের ওপর সেই বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই চাপে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নারীদের নিরাপত্তা ও বিচারহীনতার প্রশ্নে যে গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, রত্না দেবনাথের সম্ভাব্য জয় সেই ক্ষোভেরই ব্যালট-বিস্ফোরণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আজ সোমবার (৪ মে) ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির প্রবণতা সামনে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ২০৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০১১ সাল থেকে চলে আসা তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি।
২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ২০২৬-এর এই ম্যান্ডেট বলছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবার হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির দিকে ঝুঁকেছেন। দীর্ঘ বাম এবং তৃণমূল জমানার পর এই পটপরিবর্তন ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
রত্না দেবনাথের সমর্থকরা বলছেন, এই জয় কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি রাজ্যের প্রতিটি মেয়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। বিধানসভায় এখন মেয়ের বিচারের জন্য সরাসরি সওয়াল করবেন এক মা।
এনএন/ ৪ মে ২০২৬









