২০ হাজার কোটি টাকা ছাপানোর খবর সঠিক নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল – সরকারকে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দেওয়ার যে খবর সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, বাস্তবতার সঙ্গে এই খবরের কোনো মিল নেই।
শনিবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সভায় গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খেলাপি ঋণ থাকলেও এর একটি বড় অংশের বিপরীতে কোনো দৃশ্যমান সম্পদ বা যথাযথ কাগজপত্র নেই। ফলে এসব ঋণকে প্রচলিত অর্থে খেলাপি বলা কঠিন, অনেক ক্ষেত্রে এগুলোকে সরাসরি অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরগতির কারণ হিসেবে তিনি বেনামি লেনদেন ও গোপন সম্পদ শনাক্ত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি একটি গবেষণা সংস্থার পক্ষ থেকে টাকা ছাপানোর যে দাবি করা হয়েছে, সে বিষয়ে গভর্নর বলেন, সরকারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস নামে একটি হিসাব রয়েছে। এর মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক প্রয়োজন মেটানো হয় যা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় এই হিসাবের স্থিতি ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ১১ হাজার ১০৩ কোটিতে নেমে এসেছে। এটি কোনোভাবেই নতুন করে টাকা ছাপানো নয় বরং সরকারের নিয়মিত নগদ ব্যবস্থাপনা।
বিভ্রান্তিকর সংবাদ দেশের ক্রেডিট রেটিংয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। এছাড়া একীভূত হওয়া পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, এসব ব্যাংক এখনো সমন্বিত সফটওয়্যারের আওতায় আসেনি।
স্টার্টআপ খাতের উন্নয়নে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার একটি তহবিল মে মাসে চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করতে ৩০ জুনের পর থেকে বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা কিউআর ব্যবহারের ওপর জোর দেন গভর্নর।
এনএন/ ২৬ এপ্রিল ২০২৬









