পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হতো না: সেনাপ্রধান

কক্সবাজার, ২৪ এপ্রিল – কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিমান বাহিনীর পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি নাও হতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেনাপ্রধান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ক্রয় না করায় বিমান বাহিনীর সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যদি ওই অঞ্চলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকত, তবে হয়ত আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
সামরিক সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধ এড়ানোর জন্যই শক্তিশালী প্রস্তুতির প্রয়োজন। এই কোর্সে সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং কূটনীতিকসহ মোট ৪৫ জন ফেলো অংশ নেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা সম্পর্কে জানার অধিকার সবার রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি নৌবাহিনীর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আমদানি ও রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশের সমুদ্রপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ। সেনাপ্রধান আরও বলেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি সামরিক খাতে জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫ দশকের বেশি সময় পার হলেও পর্যাপ্ত রিফাইনারি তৈরি না হওয়ায় বাংলাদেশ সস্তায় রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করতে পারছে না। ইস্টার্ন রিফাইনারির সীমাবদ্ধতার কারণে চড়া দামে পরিশোধিত তেল আমদানি করতে হচ্ছে যা সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। অনুষ্ঠানে এনডিসি কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ঐকমত্য গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এস এম/ ২৪ এপ্রিল ২০২৬









