ঢাকার চার নদী রক্ষায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনার ১৭ বছরেও অনেক কাজ বাকি

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল – ঢাকার অস্তিত্ব রক্ষায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এগুলো এখনো কার্যকর সুরক্ষার আওতায় আসেনি। উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে নদীগুলো দখলমুক্ত ও সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়ার ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ২০০৯ সালে উচ্চ আদালত সরকারকে নদীগুলোর সীমানা নির্ধারণ করে অন্তত ১০ হাজার পিলার স্থাপন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দূষণ রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২২০ কিলোমিটার নদীপাড় সুরক্ষিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে এখনো বিশাল এলাকা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এক হাজারের বেশি সীমানা পিলার এখনো বসানো হয়নি। এছাড়া প্রায় ৩২ কিলোমিটার এলাকায় কোনো পিলার নেই এবং ১৪৮ কিলোমিটার নদীপাড়ে স্থায়ী রক্ষা দেয়াল নির্মিত না হওয়ায় নতুন করে দখলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআইডব্লিউটিএ এসব বাস্তবায়নে কাজ করলেও পরিবেশবিদদের মতে তাদের উচ্ছেদ অভিযান টেকসই হচ্ছে না।
অনেক ক্ষেত্রে উচ্ছেদের পর পুনরায় নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। নদী রক্ষার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ তিন ধাপে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও জমি সংক্রান্ত মামলা এবং বাজেট জটিলতায় কাজ থমকে গেছে। দ্বিতীয় ধাপের ব্যয় ৮৪৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এখন ১,২৭৬ কোটি টাকায় ঠেকেছে।
অন্যদিকে ডেমরা, কেরানীগঞ্জ ও পূর্বাচলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকার জন্য প্রস্তাবিত তৃতীয় ধাপের প্রকল্পটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো একে আদালতের নির্দেশ পালনে চরম অবহেলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে এখনই দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও সীমানা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ঢাকার প্রাণ হিসেবে পরিচিত এই নদীগুলো অচিরেই মৃত জলাভূমিতে পরিণত হবে।
এস এম/ ২৪ এপ্রিল ২০২৬









