মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের সঙ্গে গোপন চুক্তির অভিযোগ নাকচ করল কাতার

দোহা, ১৫ এপ্রিল – ইরানের সঙ্গে গোপন কোনো চুক্তিতে যাওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও সুনাম নষ্টের অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। দেশটির সরকারের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে চলমান সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে দোহা তেহরানের সঙ্গে কোনো ধরনের একতরফা বা গোপন আলোচনায় জড়ায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে প্রতিটি পদক্ষেপ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করেই নেওয়া হচ্ছে। মাজেদ আল আনসারি বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো একমুখী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

কাতার এই সংকট মোকাবিলায় একা কাজ করছে এমন ধারণাও তিনি নাকচ করে দেন। যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেনের দাবিকে তিনি সরাসরি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া কাতারি মুখপাত্র জানান যে তারা শুরু থেকেই গালফ অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছেন। কাতার মনে করে এই ধরনের প্রতিটি আক্রমণ দেশটির নিজস্ব সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি হুমকি। এর জবাবও সম্মিলিতভাবে হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হরমুজ প্রণালীকে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কাতার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটি কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরুর পক্ষে কাজ করছে। এছাড়া পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাতেও দোহার সমর্থন রয়েছে। মাজেদ আল আনসারি আরও জোর দেন যে শুধুমাত্র সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয় বরং একটি সমন্বিত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে যা সব পক্ষের উদ্বেগকে বিবেচনায় নেবে।

গত ১৩ এপ্রিল জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি একটি চিঠির মাধ্যমে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের কাছে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এরপরই কাতারের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে গোপন আলোচনার গুঞ্জন ওঠে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার প্রসঙ্গে আনসারি বলেন যে কাতার যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি তাদের আছে।

এস এম/ ১৫ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language