উত্তর আমেরিকা

ন্যাটোর বিকল্প সুরক্ষা বলয় তৈরির পথে ইউরোপ: যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কমার শঙ্কা

ওয়াশিংটন, ১৫ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মুখে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ন্যাটোর বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বিদ্যমান সামরিক কাঠামো ব্যবহার করেই মহাদেশটির সুরক্ষায় একটি জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে একে ইউরোপীয় ন্যাটো হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা এবং মার্কিন সামরিক সক্ষমতার অভাব নিজস্ব সম্পদ দিয়ে পূরণ করা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে এটি ন্যাটোর কোনো পূর্ণাঙ্গ বিকল্প নয় বরং রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা ও নিরাপত্তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা। দীর্ঘদিন এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করা জার্মানি বর্তমানে এই পরিকল্পনাকে সমর্থন দেওয়ায় এটি নতুন গতি পেয়েছে। চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী ফ্রিডরিখ ম্যারৎসের নেতৃত্বে বার্লিনের এই অবস্থান পরিবর্তন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর বক্তব্য এই উদ্যোগকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করার পাশাপাশি প্রয়োজনে সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব মনে করেন নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্র থেকে ধীরে ধীরে ইউরোপের দিকে সরে আসছে এবং এটি একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত। অন্যদিকে জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন ন্যাটো উভয় পক্ষের জন্য অপরিহার্য হলেও নিজস্ব সুরক্ষায় ইউরোপকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।

তবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এখনো মার্কিন নির্ভরতা রয়ে গেছে। এই সংকট দূর করতে ইউরোপীয় দেশগুলো যৌথ অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সুবিধা ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন বছরের পর বছর সামরিক খাতে কম বিনিয়োগের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন শূন্যস্থান পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে ইউরোপ ক্রমশ স্বনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

এস এম/ ১৫ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language