ফরিদপুর

ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট

ফরিদপুর, ২১ মার্চ – ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পূ

র্বশত্রুতার জেরে মধ্যরাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত ঈদের দিন সকালেও রূপ নেয় ভয়াবহ সংঘর্ষে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইসমাইল মুন্সী এবং কামরুল মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল।

এই বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে কামরুল মিয়ার সঙ্গে ইসমাইল মুন্সীর ছেলে ফুয়াদ হোসেনের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এরপর রাত বারোটার দিকে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র যেমন ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সে সময় অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই তাণ্ডব। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় মাতব্বররা পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে শনিবার সকালে ঈদের নামাজ শেষে এই উত্তেজনা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সকাল নয়টার দিকে উভয় পক্ষ ফের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষের সময় দশ থেকে বারোটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আসাদুজ্জামান জানান, ইসমাইল মুন্সী ও কামরুল মিয়া পরস্পরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল।

বৃহস্পতিবারের কথা কাটাকাটি থেকেই মূলত এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে এবং শনিবার তা পুনরায় বড় আকার ধারণ করে। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এ এম/ ২১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language