জাতীয়

মাঠ চষেও সংসদে নেই চরমোনাই পরিবার ভাইদের ভরাডুবি, দলের একমাত্র সান্ত্বনা বরগুনা

বাংলাদেশ, ১৩ ফেব্রুয়ারি – নিজে প্রার্থী না হয়েও নির্বাচনের মাঠে সরব উপস্থিতি ছিল চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করী‌মের। মঞ্চ থেকে মিছিল কিংবা গণসংযোগ সবখানেই তার কণ্ঠ শোনা গেছে দেশের নানা প্রান্তে। গণমাধ্যমেও তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবারের নির্বাচনে সারা দেশে ২৫৩ জন প্রার্থী দিয়েছিল। জুলাই পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দলের কর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল রাজনৈতিক মানচিত্রে পরিবর্তনের।

হাতপাখা প্রতীকের ২৫৩টি আসনের মধ্যে বরগুনা ১ আসনে সেই প্রত্যাশার কিছুটা প্রতিফলন দেখা গেছে। সেখানে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী অলি উল্লাহ জয়ী হয়েছেন যা ইসলামী আন্দোলনের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে দলের এই একক জয় চরমোনাই পরিবারের নিজস্ব নির্বাচনী বাস্তবতা বদলাতে পারেনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পীরের তিন ভাই চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের কেউই জিততে পারেননি। এমনকি এক ভাইয়ের ক্ষেত্রে জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতিতে চরমোনাই পরিবার কেবল প্রান্তিক নয় বরং কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আসীন। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং ধর্মীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার সবখানেই এই পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। চরমোনাই পীর নিজে ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে সেই দায়িত্ব নেন তার ভাই সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের যিনি নিজেও দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পীরের আরেক ভাই সৈয়দ মুহাম্মদ জিয়াউল করিম।

এই পরিবারের চার ভাই সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের এবং সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম ও সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী এবং সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল করিম বিভিন্ন সময়ে জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পেলেও সংসদে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় বরিশাল ৪ আসনে প্রার্থী ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের। প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী তিনি ৩৬ হাজার ৭৫৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হন। নির্বাচনের পর আবুল খা‌য়ের সামাজিক যোগা‌যোগ মাধ‌্যমে ফলাফল মেনে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। অন্যদিকে বরিশাল ৫ এবং বরিশাল ৬ আসনে প্রার্থী ছিলেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। বরিশাল ৫ আসনে তিনি ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থান নিশ্চিত করলেও বরিশাল ৬ আসনে তার ফলাফল ছিল হতাশাজনক। সেখানে তিনি মাত্র ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ঢাকা ৪ আসনে প্রার্থী ছিলেন চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ।

এই আসনে তিনি মাত্র ছয় হাজার ৫১৮ ভোট পান ফলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজন এর সম্পাদক রফিকুল আলমের মতে চরমোনাই দরবারের প্রভাব প্রশ্নাতীত হলেও সংসদীয় নির্বাচনে ভিন্ন সমীকরণ কাজ করে। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী ইসলামী আন্দোলনের ভোটব্যাংক এখনো সীমিত এবং বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়েছে। এছাড়া তরুণ ও শহুরে ভোটারদের সঙ্গে দলটির রাজনৈতিক ও আবেগী সংযোগ এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ এম/ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language