জামায়াতের জোটে নয়, এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে ইসলামী আন্দোলন

ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি – জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি এককভাবেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা ২৬৮টি আসনে মাঠে কাজ করছেন এবং সবাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কেউই মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, দেশের ইসলামপন্থি জনতার আবেগের সঙ্গে তারা কোনোভাবেই প্রতারণা করতে পারেন না। ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামের আলোকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তারা কাজ করে আসছেন এবং সেই পথ থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, গতকাল ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে যে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে, সেখানে ইসলামী আন্দোলনও ছিল। সেখানে আসন বণ্টনের ঘোষণা আসে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপন্থি শক্তিগুলোকে এক জায়গায় আনার যে চেষ্টা করা হচ্ছিল, শেষ পর্যায়ে এসে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই শঙ্কা থেকেই তারা মনে করেছেন, ইসলামের পক্ষে থাকা অবস্থানটি নিজেদের হেফাজতে রাখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সামনে পথচলা সহজ নাও হতে পারে, কারণ তারা ক্ষমতার রাজনীতি করেন না। তাদের মূল লক্ষ্য ইসলাম, নীতি ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতি। কিন্তু নীতি, আদর্শ, রাজনৈতিক অবস্থান ও ইনসাফের প্রশ্নে তারা নানা বৈরিতার শিকার হয়েছেন। এ কারণেই আজ তারা ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে আপিলে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮ জন প্রার্থী বর্তমানে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সবাই নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাদের শক্তি ও সামর্থ্য বেশি হতে পারে, কিন্তু আদর্শিক ও নৈতিক দিক থেকে ইসলামী আন্দোলন কারো চেয়ে দুর্বল নয়।
গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। তিনি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন গাজী আতাউর রহমান। এই বিষয়টি জানার পরই ইসলামী আন্দোলনের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তারা যে লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছিলেন, তা অর্জিত হবে না। তিনি বলেন, যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন যদি প্রধান শক্তিগুলোই ইসলামী আইন ও আদর্শ থেকে সরে যায়, তাহলে সারা দেশে ইসলামের পক্ষে কাজ করা কর্মী ও সমর্থকদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না।
এনএন/ ১৬ জানুয়ারি ২০২৬









