
মন্ট্রিয়ল। শীতকালে সাদা তুষারের চাদরে শহরটি ঢাকা পড়লেও অভিবাসীদের ব্যস্ততা কখনো কমে না। এখানে সবাই জীবন গুছিয়ে নেওয়ার সংগ্রামে ব্যস্ত। কেউ ট্যাক্সি চালায়, কেউ রেস্তোরাঁয় কাজ করে, কেউবা সরকারি চাকরিতে ঢুকে স্বপ্ন দেখে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের। সেই ব্যস্ত শহরের এক অংশে বাস করে পারভীন আক্তার; যার জীবনটা বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে জমে আছে হাজারো গোপন ক্ষত। তার স্বামী নাজমুল হাসান বাবু প্রায় সাত বছর ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন মন্ট্রিয়লে। মাত্র দুই মাস আগে পারভীন স্বামীর কাছে এসেছে, সংসার গুছিয়ে নেওয়ার আশায়। কিন্তু সে জানে, তার জীবন স্বাভাবিক হবে না। একটি নাম, একটি সম্পর্ক, তার বুকের ভেতর এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন হয়ে আটকে আছে- আরিফুল ইসলাম।
পারভীন আরিফুলকে ভালোবাসত, কিন্তু সেই ভালোবাসা তাকে এক ভয়ংকর জালে ফেলে দেয়। নরসিংদীর কলেজে পড়ার সময় পারভীনের পরিচয় হয়েছিল আরিফুলের সঙ্গে। প্রথম দিকে ছিল বন্ধুত্ব, পরে সেই সম্পর্ক গভীর হয়। আরিফ ছিল স্বপ্নবাজ, আত্মবিশ্বাসী, স্মার্ট একজন তরুণ, যার কাছে জীবন মানে উপভোগ করা। পারভীন-আরিফের সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হয়, তারা নিয়মিত দেখা করতে শুরু করে। প্রথমে নরসিংদীতে, পরে ঢাকায়। হোটেলে রাত কাটানোর অভ্যাস হয়ে ওঠে স্বাভাবিক।

কিন্তু পারভীন জানত না, আরিফুল কেবল প্রেমের নামে শারীরিক সম্পর্কটাই চেয়েছিল। প্রতিবার তারা যখন হোটেলে রাত কাটাত, আরিফ গোপনে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করত। প্রথমে পারভীন বুঝতে পারেনি, কিন্তু একসময় যখন সে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইল, তখনই শুরু হলো ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইলিং। আরিফ প্রথমে শুধু ভয় দেখাত, পরে টাকা দাবি করা শুরু করলো। পারভীন বাধ্য হয়ে টাকা দিত, কারণ সে জানত, যদি ভিডিওগুলো ফাঁস হয়ে যায়, তবে তার জীবন শেষ হয়ে যাবে। পরিবার, সমাজ, স্বামী সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।
২০১৬ সালে নরসিংদীর ঘোড়াদিয়া এলাকার নাজমুল হাসান বাবুর সঙ্গে পারভীনের বিয়ে হয়। নাজমুল ছিল একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী যুবক, যে বিদেশে গিয়ে নিজের জীবন গড়ে তুলতে চেয়েছিল। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই সে কানাডায় চলে যায় এবং পারভীন দেশে থেকে যায়। এই দূরত্বই সুযোগ করে দেয় আরিফুলের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠার। নাজমুল হয়তো কিছুটা বুঝতে পেরেছিল, কিন্তু সে কখনোই প্রকাশ্যে কিছু বলেনি। সে ভেবেছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু ঠিক হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরও ভয়ানক রূপ নেয়। পারভীন যখন বুঝতে পারল, সে আরিফুলের ফাঁদে আটকে গেছে, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর, পরিস্থিতির চাপে পড়ে পারভীন আরিফুলকে নোটারি হলফনামার মাধ্যমে বিয়ে করে। কিন্তু সেই বিয়ে ছিল শুধুই কাগজে-কলমে। পারভীন বুঝতে পারছিল, সে একটি ভয়ংকর জালে আটকে গেছে।
এরপর আরিফুল হঠাৎ করেই জাপানে চলে যায়। তার নতুন স্বপ্ন ছিল বিদেশে স্থায়ী হওয়া। বাংলাদেশি এক পরিচিত বন্ধুর সাহায্যে কাজ নেয় একটি রেস্টুরেন্টে। সেই সময় তার পরিচয় হয় নাচুকি নামের এক জাপানি তরুণীর সঙ্গে। নাচুকি ছিল ভীষণ প্রাণোচ্ছল। সে আরিফের ব্যক্তিত্বের প্রতি মুগ্ধ হয়ে পড়ে। পরিচয় থেকে প্রেম, তারপর বিয়ে। নাচুকি ইসলাম গ্রহণ করে, নিজের নাম পাল্টে রাখে আয়েশা। তাদের সংসার ছিল ভালোবাসায় পূর্ণ এবং তারা তাদের প্রথম সন্তানের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন।

এদিকে পারভীন ভেবেছিল, সব শেষ। নতুন দেশে নতুন জীবন শুরু করবে। কিন্তু ২০২৪ সালের শুরুর দিকে আবারও শুরু হয় সেই পুরোনো দুঃস্বপ্ন। আরিফ এবার হুমকি দিয়ে বলে পারভীন যদি তার কাছে না আসে, তবে তার গোপন ভিডিও তার স্বামী ও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেবে। প্রথম প্রথম সে হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত থাকত, কিন্তু একদিন সত্যিই কিছু ভিডিও পাঠিয়ে দেয় নাজমুলের কাছে।
সেই রাতে পারভীন তার স্বামীর চোখের সামনে দাঁড়াতে পারেনি। নাজমুলের হাতে মোবাইল, স্ক্রিনে ভেসে উঠছে অতীতের লজ্জার মুহূর্তগুলো। নাজমুল স্বাভাবিকভাবে বলল, ‘তুমি যা করেছ, তা মিটমাট করে ফেলো। ওকে বোঝাও, সব মুছে ফেলতে বলো।’ পারভীন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
এবার পারভীন একটি পরিকল্পনা করে। আরিফের সাথে শেষ বোঝাপড়া করার জন্য সে ১৬ মে কানাডা থেকে বাংলাদেশে এসে ঢাকার খিলক্ষেতের একটি হোটেলে ওঠে। আরিফুলকেও ঢাকায় আসতে বলে। সে মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় যে, যদি সবকিছু ঠিক না হয়, তবে সে আত্মহত্যা করবে। ক্ষণিক পরে সে সিদ্ধান্ত নেয়, যদি বোঝাপড়া না হয় তবে সমস্যার মূল কারণকে সরিয়ে দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

পারভীন ঢাকায় ফিরেছে নিশ্চিত হয়ে জাপান থেকে ১৭ মে বিকেল ৪টায় ঢাকায় আসে আরিফুল। ঢাকায় এসে বসুন্ধরার এয়ার বিএনবির একটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে ওঠে। (আগেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সি-ব্লকের ২ নম্বর রোডের এক নম্বর ভবনে মাটি প্রপার্টিজের ২০৩ নম্বর স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট সাত দিনের জন্য ভাড়া করে রাখে আরিফুল। অগ্রিম ১৩ হাজার টাকা বিলও পরিশোধ করেন অনলাইনে।) সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, সেদিন বিকেলেই পারভীন সেখানে যায়। দুজনের মধ্যে দীর্ঘ আলাপ হয়। পারভীন বারবার অনুরোধ করছিল, যেন আরিফ তার ভিডিও মুছে ফেলে। কিন্তু আরিফ এ কথা, সে কথা বলে পাশ কাটিয়ে যায়। কথা কাটাকাটি, অনুনয়-বিনয়। এটা স্পষ্ট আরিফ কিছুতেই পারভীনকে মুক্তি দিতে রাজি নয়। রাত বাড়তে থাকে।
গভীর রাত। পারভীন ঘুমিয়ে পড়ার ভান করে। ক্লান্ত আরিফুলও গভীর ঘুমে চলে যায়। এই ঘুম বুঝি তার শেষ ঘুম! এক পর্যায়ে পারভীন বিছানা থেকে উঠে ছুরি হাতে নেয়। প্রথমে তার হাত কাঁপছিল, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে দ্বিধা কাটিয়ে আরিফের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে আরিফের গলায়, বুকে, পেটে। মিশন কমপ্লিট!
রক্তমাখা ছুরি হাতে পারভীন বিছানার পাশে বসে পড়ে। সে জানত, এই খুনের জন্য হয়তো তাকে পুরো জীবন পালিয়ে থাকতে হবে। সে একটি চিরকুট লিখে। যাতে লেখা ছিল ‘আমার জীবনের শান্তি নষ্ট করে দিছে এই রেপিস্ট, ব্ল্যাকমেলার। সে তার নিজের ইচ্ছায় আমার হাতে ধরা দিছে। নিজের হাতে এই রেপিস্ট, ব্ল্যাকমেলারকে মেরে শান্তি নিলাম।’
১৮ মে সকাল সাড়ে ৬টায় পারভীন অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের হয়। সরাসরি শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে কুয়েত এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ধরে কানাডায় ফিরে যায়।
১ জুন। পনেরো দিন পর পুলিশ আরিফুলের লাশ উদ্ধার করে। পারভীনের নাম উঠে আসে সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ডের ভিত্তিতে। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, ১৭ মে বিকেলে পারভীন ও আরিফুল অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকে। ১৮ মে সকালে পারভীন একা বের হয়ে যায়।
এদিকে, ১৭ মে আরিফুল দেশে এলেও তার পরিবারকে জানায়নি। সে তার জাপানি স্ত্রীকে বলেছিল, ৩০ মে ঢাকা ত্যাগ করবে। ৩১ মে জাপানে ফেরার কথা ছিল। জাপানের বাসায় না ফেরায় রাত সোয়া ৮টায় আয়েশা বাংলাদেশে আরিফুলের বোন সাফরিজা আক্তার রেলিকে ফোন করে বলে, আরিফুলের জাপানে ফেরার কথা ছিল; ফেরেনি। ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ ফোনের আগে বাংলাদেশে তার পরিবারের কেউই জানত না আরিফুলের দেশে ফেরার বিষয়টি। এর পর তারাও খোঁজাখুঁজি শুরু করে। হোয়াটসঅ্যাপে কল করে বন্ধ পাওয়া যায়। আরিফুলের বন্ধুমহল থেকে শুরু করে পরিচিতদের কাছে ফোন করে তাঁর সন্ধানের চেষ্টা করেন স্বজন। এক পর্যায়ে শনিবার বিকেলে ভাটারা থানা পুলিশের কাছ থেকে খুন হওয়ার খবর জানে তারা। এর পর রাতে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে লাশ শনাক্ত করেন।
আরিফুলের মরদেহ উদ্ধারের পর তার বড় বোন সাফরিজা আক্তার রেলি (৩০) বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় পারভীন আক্তার প্রভা ও তার কানাডা প্রবাসী স্বামী নাজমুল হাসান বাবুকে আসামি করা হয়।
এজাহারে সাফরিজা উল্লেখ করেন, পারভীন তার স্বামীকে রেখেই আরিফুল ইসলামের সঙ্গে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে করেছিলেন। তিনি বর্তমান স্বামীর সঙ্গে কানাডা চলে যাওয়ার পর আরিফুল জাপানে গিয়ে আয়েশাকে বিয়ে করেন। এতে পারভীন ক্ষিপ্ত হয়ে তার ভাইসহ তাকে এবং তার পরিবারকে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হুমকি দিয়ে তিনি আরিফুলকে হত্যা করার হুমকি দেন। তারা এখন নিশ্চিত হয়েছে, পারভীন ও তার স্বামী নাজমুল পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ভাই আরিফুলকে জাপান থেকে কৌশলে বাংলাদেশে নিয়ে এসে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছে। সাফরিজা আরও বলেন, ‘পারভীন আমাকে একাধিক দিন ফোন করে গালমন্দ দিয়েছে। আরিফুল নাকি তার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। এ জন্য আরিফুলসহ পরিবারের সবাইকে সে দেখে নেবে। পারভীনের স্বামী বাবুও ফোনে হুমকি দিয়েছে।
পারভীনের বাবা নুরুল ইসলামের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কথা বলেছেন একাধিক কর্মকর্তা। মেয়ে ঢাকায় এসে আবার এক দিনের মধ্যে কানাডায় চলে গেছে, শুনে প্রথমে চমকে ওঠেন তিনি। এর পর মেয়েকে ফোন করে সত্যতা জানতে চান। এর পর তার বাবার কাছে আর কোনো কিছু গোপন করতে পারেননি পারভীন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বাসঘাতককে মারতে ঢাকায় গিয়েছি। ও নরপিশাচ। এমন মৃত্যু ওর প্রাপ্য ছিল। ওকে মেরে আমার কোনো অনুশোচনা নেই। কোনো দুঃখ নেই। এ জীবনে আর দেশে ফিরতে চাই না।’
আরিফুলের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে জাপানের বাংলাদেশ কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশেষ করে, তার সহকর্মী ও মসজিদের মুসল্লিরা এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত হন। কমিউনিটি নেতারা আয়েশা ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং তাদের সান্ত্বনা প্রদান করেন। তারা জাপানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সর্বশেষ: নানামুখী তদন্তে এ হত্যার আদ্যোপান্ত উঠে এসেছে। পুলিশ বলেছে, পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অনেক প্রশ্ন ভেসে উঠছে- আরিফুল সত্যিই কি একজন ব্ল্যাকমেলার ছিলেন, নাকি এটি শুধুই একটি সাজানো চিরকুটের নাটক? পারভীন এখন কোথায়? নাজমুল কোথায়? এ হত্যাকান্ডের বিচার আদৌ হবে কি?
পুনশ্চ: টরন্টোর প্রবাসী ইসরাত জাহানের বক্তব্য
টরন্টো প্রবাসী, নরসিংদির বাসিন্দা ইসরাত জাহান—যিনি আরিফ ও পারভীন দুজনকেই ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, সম্প্রতি আরিফ হত্যা-সংক্রান্ত আমার প্রতিবেদনের কিছু তথ্য সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আমার প্রতিবেদনটি একপেশে ছিল এবং ঘটনাপ্রবাহের সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়নি।
ইসরাত জাহান জানান, পারভীন আক্তার প্রভা ও নাজমুল হাসান রনির বিয়ে হয়েছিল ২০০৯ সালে। এরপর থেকেই পারভীনের আরিফের সঙ্গে গোপন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরে পরকীয়ায় রূপ নেয়।
আরিফের শোকাহত বিধবা মা ও বোন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছেন, পারভীন আরিফকে ঠকিয়েছে ও ব্যবহার করেছে। তাঁরা পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন, যেন পারভীনের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেন খতিয়ে দেখা হয়।
তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশ পুলিশ কেবল টাকার ভাষাই বোঝে, আর কানাডিয়ান পুলিশ তখনই সক্রিয় হয়, যখন দূতাবাস বা তাদের নিজস্ব কোনো স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইসরাত আরও বলেন, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তিনি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অনেকেই সত্য জানার আগ্রহ দেখান না এবং অন্ধ আবেগে পরিস্থিতিকে বিচার করেন।
ঘটনার গভীরে গিয়ে তিনি দাবি করেন, পারভীন নিজেই আরিফকে ফোন করে বলেছিলেন, তিনি নাজমুলকে ছেড়ে দিচ্ছেন এবং আরিফের সঙ্গেই জীবন কাটাতে চান। আবেগপ্রবণ আরিফকে ব্ল্যাকমেইল করে পারভীন বলেন, তিনি আত্মহত্যা করবেন এবং বাংলাদেশে চলে আসছেন। সরল বিশ্বাসে আরিফ বাংলাদেশে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে চান।
ইসরাতের দাবি, পুরো বিষয়টি নাজমুলের পরিকল্পিত ফাঁদ ছিল। এমনকি একান্ত আলোচনায় নাজমুল নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তিনি পারভীনকে পাঠিয়েছিলেন এবং আরিফকে হত্যা করতে বলেছিলেন।
বাংলাদেশ পুলিশ হত্যাকাণ্ডের পেছনের সব তথ্য জানে—কখন, কোথায়, কীভাবে, কারা জড়িত, এমনকি গাড়ির নম্বর, ঠিকানা, চাকরির তথ্য—সবই পুলিশের কাছে আছে। তবুও মাত্র ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে তারা ন্যায়ের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।
আরিফ আজ নেই, সে আর কখনো নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে পারবে না। তার হয়ে কেউ লড়তেও পারছে না। অথচ হত্যাকাণ্ডে দুই পক্ষেরই সমান দায় ছিল। কিন্তু জীবন দিতে হয়েছে কেবল আরিফকেই। পারভীন আজও পৃথিবীর বুকে নির্ভয়ে চলাফেরা করছে।









