
২০১৩ সালে শ্রীমঙ্গলে পাঁচ তারকা মানের হোটেল এবং রিসোর্ট গ্র্যান্ড সুলতানের অভিযাত্রার কথা শুনে আমি খুব আনন্দিত হই। সারা বিশ্বের প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ সংবাদটি দিতে তখন আমি ‘দেশে বিদেশে’তে একটি প্রতিবেদন লিখি এবং উদ্যোক্তাদের শুভ কামনা জানাই। এর কিছুদিন পর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ম্যানেজার পলাশ চৌধুরী আমাকে টেলিফোনে ধন্যবাদ জ্ঞাপণ করে সপরিবারে একদিন তাদের আতিথিয়তা গ্রহণ করার আমন্ত্রণ জানান।
দিন যায়, বছর যায়, আমার আর যাওয়া হয় না। অতি সম্প্রতি আমার মেয়ে বীথিকা দেশে বেড়াতে এলে তাকে নিয়ে শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে যাই এবং দুপুরে গ্র্যান্ড সুলতানে আমরা খেতে আসি। খাওয়া দাওয়া শেষে হঠাৎ মনে হলো পলাশ চৌধুরীর কথা! তিনি এখনও সেখানে আছেন কি না নিশ্চিত হতে রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করতেই উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বললেন, “একটু অপেক্ষা করুন, আমি তাকে ফোন করছি।” তিনি খবর দিলেন- ‘স্যার আপনার গেষ্ট এসেছেন কানাডা থেকে’।

কিছুক্ষণের মধ্যে পলাশ চৌধুরী নীচে নেমে এসে জড়িয়ে ধরলেন। কি করবেন, কি খাওয়াবেন দিশেহারা! বললাম, খাওয়া দাওয়া শেষ; কফি খেতে পারি! কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে তাঁর কাছ থেকে শুনছিলাম গ্র্যান্ড সুলতানের গল্প! তিনি বললেন, ‘‘আপনার সেই লেখাটা আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা বলে বোঝানো যাবে না। আমি নিজে সেটা কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম।’’ তার আন্তরিকতাপূর্ণ কথাগুলো শুনে আমি অভিভূত হয়ে গেলাম। এত বছর পরেও কেউ একজন আমার লেখার কথা মনে রেখেছে, ভাবতেই ভালো লাগছিল। তিনি স্মরণ করিয়ে দিলেন- কর্তৃপক্ষের দেয়া সে আমন্ত্রণের কথা। জানতে চাইলেন কবে আসবো! আমাকে অতীব সম্মান প্রদর্শন করার জন্য রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁর মাধ্যমে ধন্যবাদ পৌঁছে দেয়ার জন্য বলি।

এখানে পলাশ চৌধুরী সম্পর্কে দু’টি কথা না বললেই নয়। আন্তরিক বন্ধুভাবাপূর্ণ এ মানুষটি গ্র্যান্ড সুলতানে যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। মুক্তকণ্ঠ, প্রথম আলো, একাত্তর টিভিতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। চিনিনা, জানিনা এমন একজন কিভাবে আমার লেখা খুঁজে বের করলেন এখনও ভেবে আশ্চর্য হই। শুধু তাই নয়; তিনি আমার লেখাটি তাঁর কর্তৃপক্ষের নজরে এনে আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন তাতে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ পলাশ চৌধুরী।

এক নজরে গ্র্যান্ড সুলতান
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদার আসনে তুলে ধরতে শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত গ্রান্ড সুলতানের যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। পাহাড় ঘেরা নয়নাভিরাম লোকেশনে স্থাপিত ৫ তারকা মানের ৯ তলা ভবনের এ রিসোর্টে রয়েছে আধুনিক সকল সুবিধাসহ দুটি ব্যাঙ্কোয়েট হল, আন্তর্জাতিক মানের রেষ্টুরেন্ট, তিনটি ক্যাফে, অত্যাধুনিক সুসজ্জিত জিমনেসিয়াম, স্পা, সনা, জ্যাকুজি ও মাসাজ পার্লার। প্রেস্টিজিয়াস এ রিসোর্টে আরও রয়েছে তিনটি বিশালাকৃতির দৃষ্টিনন্দন মিটিং কক্ষ।

এছাড়াও রয়েছে একটি অসাধারণ গলফ কোর্স। আরও রয়েছে লন টেনিস ও ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট। ইনডোর গেমস-এর মধ্যে রয়েছে বিলিয়ার্ড ও টেবিল টেনিসের সুবিধা। আছে ৩টি সুইমিংপুল ও মুভি থিয়েটার।
সবুজ প্রকৃতির কোলে অবস্থিত এ জায়গাটি যেন এক স্বপ্নপুরী। গ্র্যান্ড সুলতানের আশে পাশে রয়েছে অসংখ্য চা বাগান। এছাড়া অনতিদূরে রয়েছে লাউয়া ছড়া জাতীয় উদ্যান। রয়েছে পর্যটকদের মুগ্ধ করার মতো আরও অনেক, অনেক কিছু। সুলতানি আতিথেয়তা গ্রহণ করার জন্য গ্র্যান্ড সুলতানে সময় করে একবার ঘুরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।









