সম্পাদকের পাতা

অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সংস্কার কমিটির কাছে প্রবাসীদের প্রত্যাশা

নজরুল মিন্টো

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে প্রবাসীদের অন্তর্ভূক্তি ও তাদের মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বহু বছর ধরে বিভিন্ন ফোরামে প্রবাসীদের নানান সমস্যা তুলে ধরে আসছি। এসব সমস্যা নিরসনের উপায়, এবং নির্দিষ্ট কিছু দাবীও উত্থাপণ করেছি; কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হয় বরাবরই আমরা প্রবাসীরা উপেক্ষিত থেকেছি। এবার আশা করছি, প্রবাসী বাংলাদেশীদের উল্লেখিত যৌক্তিক দাবীগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।

১) প্রবাসী মন্ত্রণালয়কে ঢেলে সাজাতে হবে। প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় কাজগুলোর একটিরও দায়িত্ব এ মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। প্রথমতঃ পাসপোর্টের দায়িত্বে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; দ্বিতীয়তঃ দূতাবাসগুলোর তত্বাবধান এবং কনস্যুলেট সার্ভিস প্রদান করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তৃতীয়তঃ বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় (যত অঘটন ঘটে বিমানবন্দরে)। চতূর্থতঃ কাষ্টমস-এর ব্যবস্থাপনায় রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আমরা এ জটিলতার আশু অবসান চাই (বাংলাদেশে কোনো মন্ত্রণালয়ের সাথে যে কোনো মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় নেই এ বিষয়ে সকলেই অবগত রয়েছেন )। আমরা প্রবাসীরা সংশ্লিষ্ট ৫ মন্ত্রণালয়ের পিংপং খেলার বল হয়ে থাকতে চাই না। আমাদের দাবী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সার্বিক বিষয়টির দায়িত্ব যেনো প্রবাসী মন্ত্রণালয়কে দেয়া হয় এবং প্রত্যেকটি দূতাবাসে যেনো প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের একটি করে ওয়ান ষ্টপ সার্ভিস বা হেল্প ডেস্ক খোলা হয়।

২) অবৈধপথে অর্থ প্রেরণ বন্ধ করতে হলে রেমিটেন্স প্রণোদনা ২.৫% থেকে ৫% এ উন্নীত করতে হবে।

৩) রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি করতে হলে সরকারি/বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তি বান্ধব অ্যাপস তৈরি করতে হবে (যে মাধ্যমে কোনো ফি ছাড়া ডলার, পাউন্ড, দিরহাম, রিয়াল, রিঙ্গিত সহজে কনভার্ট করে টাকায় রূপান্তরিত হয়ে প্রাপকের একাউন্টে পৌঁছে যাবে)।

৪) দ্বৈত নাগরিক এবং বিদেশে জন্ম নেয়া বাংলাদেশি বংশদ্ভূতদের ‘নো ভিসা রিকোয়ারমেন্ট’ (NVR) সহজীকরণ ও ‘ফি’ মওকুফ করতে হবে।

৫) বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম সেবা-বান্ধব করতে হবে (দেখা গেছে বিভিন্ন দূতাবাসে ফোন করলে কেউ ধরে না; অটো আনসারিং মেশিন চালু হয়ে যায়। অফিসে গেলে বলে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট নিয়ে আসতে হবে, সহজ কাজকে জটিল করে সেবা প্রত্যাশীদের সাথে দুর্ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে)।

৬) জন্ম নিবন্ধন, ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট, পাওয়ার অব অ্যাটর্নী সহ অন্যান্য ডকুমেন্টসের সত্যায়ন কিংবা সংশোধন সহজীকরণ করতে হবে। বিদেশের মাটিতে জন্ম নেয়া বাংলাদেশি বংশদ্ভূতদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট গ্রহণে উৎসাহ দেয়ার জন্য সকল বাধা অপসারণ করতে হবে।

৭) পুলিশ ভ্যারিফিকেশনের নামে হয়রানি এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা (সবচেয়ে ভাল হয় এ. প্রক্রিয়াটি বাতিল করা)।

৮) বিদেশে বসে অনলাইনে অথবা পোষ্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করণ।

৯) এক কোটির অধিক প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত প্রবাসী আসন এখন সময়ের দাবী।

১০) বাংলাদেশের বাইরে দেশীয় রাজনৈতিক শাখা নিষিদ্ধ করণ (নির্বাচন কমিশনের বিধিমালায় বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত থাকলেও কার্যকর নয়)।

১১) যেসব প্রবাসী উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা বৈধভাবে দেশে প্রেরণ করবেন তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদান (যেমন বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার, প্লট বন্টনে অগ্রাধিকার, জাতীয় অনুষ্ঠানাদিতে আমন্ত্রণ ইত্যাদি)।

১২) হুন্ডি ব্যবসায়ী এবং তাদের সহযোগিদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

১৩) উন্নত বিশ্বে (ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া) ষ্টুডেন্ট/ভিজিটর ভিসা প্রসেসিং এর নামে বিভিন্ন সেমিনার, অর্থ সংগ্রহ/অর্থ পাচার বন্ধ করা আবশ্যক। আদম পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

১৪) বিমানবন্দরে স্থাপিত প্রবাসীদের জন্য ওয়ানষ্টপ ডেস্ককে শক্তিশালী করণ। (প্রবাসীদের আগমণ, বর্হিগমন, আবাসন ও বাড়িতে যাতায়াত সহ কোনো ধরনের সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে)।

১৫) প্রবাসীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গ্রাস করা, প্রতারণা কিংবা জবরদস্তি দখল রুখতে হলে প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা বা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ ডেস্ক স্থাপন।

১৬) বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রবাসীদের জন্য ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেবা চালু করা এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প-কারখানা স্থাপনে সুযোগ প্রদান।

১৭) প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে দূতাবাসের ত্বরিৎ ব্যবস্থা গ্রহণ।

১৮) বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী টাকা পাচারকারীদের নাম প্রকাশ করতে হবে।


Back to top button
🌐 Read in Your Language