শিক্ষা

৪ বিশ্ববিদ্যালয় চলছে স্থায়ী অধ্যাপক ছাড়াই

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি- স্থায়ী অধ্যাপক ছাড়াই চলছে দেশের চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। আর ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র একজন করে স্থায়ী অধ্যাপক রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউজিসি।

বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী অধ্যাপক না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ‌্যান্ড টেকনোলজি, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

আরও পড়ুন :  পদোন্নতি নিয়ে সুখবর পেলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে ২ হাজার ১৪৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১০০ জন। তাদের মধ্যে খণ্ডকালীন অধ্যাপক ১৯ জন, স্থায়ী সহযোগী অধ্যাপক ৫ জন, খণ্ডকালীন সহযোগী অধ্যাপক ৬ জন, স্থায়ী সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন ২৩ জন, খণ্ডকালীন হিসেবে আছেন ২ জন এবং স্থায়ী প্রভাষক রয়েছেন ৪৫ জন।

বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ‌্যান্ড টেকনোলজিতে শিক্ষক রয়েছেন ৯৭ জন। তাদের মধ্যে খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন ৩ জন, স্থায়ী সহযোগী অধ্যাপক ৬ জন, স্থায়ী সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন ২৩ জন আর খণ্ডকালীন হিসেবে আছেন ৪ জন এবং স্থায়ী প্রভাষক রয়েছেন ৬১ জন।

গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে ১ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩৭ জন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং স্থায়ী সহকারী অধ্যাপক পদে কোনো শিক্ষকই নেই। খণ্ডকালীন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে রয়েছেন ৯ জন। স্থায়ী প্রভাষক হিসেবে রয়েছেন ১৭ জন এবং খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে আছেন ৬ জন।

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ৫০ জন শিক্ষকের মধ্যে স্থায়ী এবং খণ্ডকালীন অধ্যাপকের পদটি শূন্য রয়েছে। সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে স্থায়ীভাবে কর্মরত রয়েছেন ৩ জন, খণ্ডকালীন কোনো সহযোগী অধ্যাপক নেই। সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন ৪ জন, খণ্ডকালীন হিসেবে রয়েছেন একজন। এছাড়া স্থায়ী প্রভাষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টি কর্মরত আছেন ২৬ জন আর খণ্ডকালীন হিসেবে রয়েছেন ১৬ জন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র একজন করে স্থায়ী অধ্যাপক রয়েছে। সেগুলো হলো- সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ‌্যান্ড টেকনোলজি, কাদিরাবাদ, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি, দি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স, শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ইউনিভার্সিটি, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ফেনী ইউনিভার্সিটি, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এবং জেড. এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউজিসির এক সদস্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে মূলত অধ্যাপকরাই। এসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী অধ্যাপক না থাকায় এদের শিক্ষার মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠবে তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা এবং প্রকাশনা কার্যক্রমও ব্যহত হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

আর/০৮:১৪/১৪ জানুয়ারি


Back to top button
🌐 Read in Your Language