
চট্টগ্রাম, ২৯ ডিসেম্বর- দেশের অর্থনীতির প্রাণ চট্টগ্রাম বন্দর। বন্দরের প্রাণ কর্ণফুলী নদী। এ নদীর তলদেশে এখন বালি ও মাটির চেয়ে পলিথিন বেশি। পলিথিন ৫৫ আর বালি ও মাটি ৪৫ শতাংশ। নদীর উত্তর পাড়ে চাক্তাই-রাজাখালীতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্থাপনা। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন স্থাপনা। ফলে বাড়ছে দখল, দূষণ, হচ্ছে ভরাট। নাভিশ্বাস কর্ণফুলী নদীর। হুমকিতে জীববৈচিত্র্য।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনসূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলীর তীর ও চাক্তাই খালের মোহনাসংলগ্ন ৩০ একর জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠে হাজারের বেশি ঘরবাড়ি, দোকানপাটসহ নানা স্থাপনা। ২১ ডিসেম্বর ওই এলাকায় ৪৭ অবৈধ দখলদারের নামে উচ্ছেদ নোটিস দেয় প্রশাসন। তাদের ৩০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী, রাজনৈতিক নেতা, সন্ত্রাসীসহ অনেকেরই অবৈধ স্থাপনা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
এদিকে কর্ণফুলীর নাব্য রক্ষায় ২৫৮ কোটি টাকায় ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ প্রকল্পের মাধ্যমে নদী থেকে ৪২ লাখ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করার কথা। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে নানা সংকটে পড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে। চীনের কাটার দিয়ে এক ঘণ্টা কাজ করলে পরে দুই ঘণ্টা ব্যয় হয় কাটার থেকে পলিথিন পরিষ্কার করতে। একপর্যায়ে কাটারের পরিবর্তে গ্রেভ দিয়ে মাটি ও বালি উত্তোলনের সিদ্ধান্ত হয়। এর পরও মাটি-বালির চেয়ে বেশি পলিথিন উঠে আসে নদীর তলদেশ থেকে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পেরে বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে সময় ও খরচ বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠায় মন্ত্রণালয়ে।
পরে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এখন নদী থেকে ৪২ লাখ ঘনমিটারের স্থলে ৫১ লাখ ঘনমিটার মাটি ও বালি উত্তোলন করতে হবে। বর্ধিত ৯ লাখ ঘনমিটার মাটি ও বালি উত্তোলনে ব্যয়ও বাড়বে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস এম জাকারিয়া বলেন, ‘কর্ণফুলীর পাড় ঘিরে জেলা প্রশাসনের অধীনে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত অবৈধ দখলে থাকা অনেক জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হাই কোর্টের আদেশ থাকায় সেখানে কিছু জায়গা উচ্ছেদ করা যায়নি। রিটগুলো খারিজ হলে অবৈধ দখলদারদের বাকি অংশ উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কর্ণফুলীর পাড় ঘিরে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের দায়িত্ব চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। গত ৮ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত এ ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দিয়েছে।’ গতকাল দুপুরে কর্ণফুলী নদীর চাক্তাই এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে টিন দিয়ে নানা স্থাপনা।
সেখানে রাতের আঁধার কিংবা দিনের আলোয় কাজ করে শ্রমিকরা। পরে সেগুলো ভাড়াও দেওয়া হয়। তা ছাড়া নদীর উত্তর পাড়ে ভরাট হওয়া জায়গায় ফেলে রাখা হয় বিভিন্ন আবর্জনা, ভাঙা যানবাহন। জানা যায়, ২০১৯ সালের ৪ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপের টানা পাঁচ দিনের অভিযানে ২৩০টি স্থাপনা উচ্ছেদ ও প্রায় ১০ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়। আলোর মুখ দেখে পাঁচটি খালের মুখ। বন্দর এলাকা থেকে শুরু করে বারিক বিল্ডিং মোড়-গোসাইলডাঙ্গা-সদরঘাট-মাঝির ঘাট-শাহ আমানত সেতু হয়ে মোহরা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলেমিটার নদীর তীর তিন ভাগ করে শুরু হয় অভিযান।
প্রথম ধাপে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয় নগরের সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার অংশে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপের অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করে আরও কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। তবে এখনো বেদখলে আছে অনেক জায়গা।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
আর/০৮:১৪/২৯ ডিসেম্বর









