জাতীয়

কাজ শেষ হওয়ার পর আবার কাটতে হবে পূর্বাচলের এক্সপ্রেসওয়ে

রাশেদুল হাসান

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি – পূর্বাচলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ( রাজউক) নির্মিত আট লেনের কুড়িল-পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের কাজ প্রায় শেষ।এদিকে শুরু হবে মেট্রোরেলের লাইন-১ এর নদ্দা থেকে রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ অংশের নির্মাণকাজ। ফলে এক্সপ্রেসওয়েটি দ্বিতীয় বারের মতো কাটতে হবে। একই রুটে সড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার পর মেট্রোরেলের উড়াল পথের পিলার স্থাপন ও স্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু হলে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা কোটি টাকার সড়কটি নষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, কুড়িল থেকে বালু নদী পর্যন্ত ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ আট লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেসওয়ে এবং ছয় লেন বিশিষ্ট সার্ভিস রোডসহ ১৪ লেন বিশিষ্ট রাস্তার কাজ প্রায় শেষ। বালু নদী থেকে কাঞ্চন পর্যন্ত ৬ দশমিক ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয় লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেসওয়ে ও ছয় লেন বিশিষ্ট সার্ভিস রোডসহ ১২ লেন রাস্তা নির্মাণও শেষের পথ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাজউক।

সূত্র জানায়, পরিকল্পনায় খাল খননসহ আট লেনের কথা থাকলেও চার লেনের জন্য ২০১৫ সালে ৫ হাজার ২৮৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। কাজ শেষের দিকে এসে পরিকল্পনায় ভুল রয়েছে বুঝতে পেরে আবার প্রকল্প সংশোধন করা হয় ২০১৮ সালের নভেম্বর। রাস্তা কেটে আবার নির্মাণ করতে গিয়ে প্রকল্প ব্যয় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা।

প্রকল্পের পরিচালক এম এম এহসান জামিল জানিয়েছেন, আট লেনের এক্সপ্রেসওয়েটির কাজ ৯৭ ভাগ কাজ শেষ। প্রধানমন্ত্রী সময় দিলে যেকোনও সময় এটি উদ্বোধন করা হবে।

অপরদিকে, মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনাকারী ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লাইন-১ এর নির্মাণ আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন।

এম এম এহসান জামিল বলেন, ‘আমরা বহু আগে থেকেই বহু বার বলে আসছি এ রুট দিয়ে মেট্রোরেলের উড়াল সড়ক করা ঠিক হবে না যেহেতু বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত একটি বড় অংশে পাতাল রেল হচ্ছে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলছে, জাইকার ফান্ডিংয়ের বিষয়ে চুক্তি হয়ে গেছে। তাই উড়ালই করতে হবে। আমরা তাদের বলছি আপনাদের পিলার আগে থেকে করে ফেলেন। পিলারগুলো করে ফেললে রাস্তার কোনও ক্ষতি হবে না। তারা আমাদের বলছেন, আপনাদের কাজ শেষ হলেও দুই পাশের মাঝ বরাবর একটা করে লেন আমাদের জন্য ছেড়ে দিয়েন। আমরা মাঝখানে চার মিটার জায়গা রেখে দিয়েছি। আমাদের কাজ শেষ হওয়ার পর ওরা কী করে বেড়ায় আমাদের জানার দরকার নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেট্রোরেলের কাজের জন্য দুই পাশে দুই লেন দরকার। এরপরও কিন্তু কাজ করতে সমস্যা হবে রাস্তার কিন্তু ক্ষতি হয়ে যাবে। স্টেশন প্লাজা করতে হলে পূর্বাচলের অনেক প্লট মার খেয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের পরিচালক মো. আবুল কাসেম ভূঁঞা জানান, এক্সপ্রেসওয়েতে মোট সাতটি স্টেশন থাকবে। রাস্তা কাটতে হবে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘রাস্তার ক্ষতি হবে। তবে বড় আকারের হবে না। কারণ আমাদের পিলারগুলো রাস্তার মাঝখানে ফাঁকা জায়গায় বসবে। যেখানে স্টেশন নির্মাণ হবে সেখানে হয়তো পিলার ও রিং বসবে। আর জায়গাটা আটকানো থাকবে। রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমরা রিপেয়ার করে দেবো।’

তিনি জানান, ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির কারণে ব্যয় বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে কাজগুলো একসঙ্গে শুরু করা যায়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ‘একই সময়ে উদ্বোধন হবে একটার, আবার ভাঙার উদ্বোধন হবে আরেকটার। শুধু এ প্রকল্প নয়, সমন্বয় করার জন্য যে প্ল্যানিং ইউনিট থাকা দরকার, যারা ঢাকার উন্নয়নকে ধারণ করবে সেটা অনুপস্থিত থাকার ফলে কিন্তু শুধু সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে না, উন্নয়ন যন্ত্রণাও বেড়ে গেছে। একবিংশ শতাব্দীতে এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ।’

তিনি বলেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ বা ঢাকা সিটি করপোরেশন প্রকল্প সমন্বয় করা উচিত।

উল্লেখ্য, লাইন-১ বিমানবন্দর রুট এবং পূর্বাচল রুটে বিভক্ত থাকবে। বিমানবন্দর অংশের রুটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩, খিলক্ষেত, যমুনা ফিউচার পার্ক, নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা, বাড্ডা, হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ, রাজারবাগ হয়ে কমলাপুর যাবে।

সম্পূর্ণ আন্ডারগ্রাউন্ড প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে ১২টি স্টেশন থাকবে। যার মধ্যে নতুন বাজার স্টেশনে লাইন-৫ -এর সঙ্গে এই রুটের আন্তসংযোগ থাকবে।

লাইন-১-এর পূর্বাচলগামী অংশটি নতুন বাজার থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক, বসুন্ধরা হয়ে পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি, মাস্তুল, পূর্বাচল পশ্চিম, পূর্বাচল সেন্টার, পূর্বাচল সেক্টর-৭ হয়ে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পূর্বাচল রুটে বিমানবন্দর রুটের অন্তর্ভুক্ত নতুন বাজার ও যমুনা ফিউচার পার্কের আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশন দুটোসহ মোট স্টেশন থাকবে ৯টি। এরমধ্যে বসুন্ধরা থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত সাতটি স্টেশন হবে এলিভেটেড ।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
আইএ/ ২০ জানুয়ারি ২০২৩


Back to top button
🌐 Read in Your Language