সুদানে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত ৩

খার্তুম, ৩১ অক্টোবর – সুদানে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে গুলি চালিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। শনিবার সামরিক বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩ বিক্ষোভকারী নিহত হন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
গত সোমবার সুদানে অন্তবর্তী সরকার বিলুপ্ত ঘোষণা করে সেনা বাহিনী। সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদকসহ কয়েকজন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামদককে অজ্ঞাত স্থানে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। পরে বুধবার তাকে ও তার স্ত্রীকে মুক্তি দেয় ক্ষমতাসীন সরকার।
এর পরই সুদানের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করেন। কাতারের দোহাভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান সুদানের প্রাদেশিক গভর্নরদের বরখাস্ত করেন এবং ২০২৩ সালের জুলাইতে জাতীয় নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
আবদাল্লা হামদককে গৃহবন্দী করার পর তার অফিস জনগণকে অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখানোর আহ্বান জানায়। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
রাজধানী খার্তুমের রাস্তায় টায়ার পুড়িয়ে তারা বিক্ষোভ দেখান। এতে অনেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন সামরিক বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৭ বিক্ষোভকারী নিহত হন।
সুদানের এ অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের অনেক দেশ। যুক্তরাষ্ট্র সুদানে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের যে সহযোগিতা দেয়ার কথা ছিল, সেটিও স্থগিত হয়ে গেছে। সুদানের সেনাপ্রধান বুরহার এ অভ্যুত্থানের জন্য দেশটির রাজনৈতিক সহিংসতাকে দায়ী করছেন।
গত বুধবার সুদানের ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার বিভিন্ন দেশে ও সংস্থায় থাকা তাদের ছয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে। সুদানের রাষ্ট্রিয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার আল জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, কাতার, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সুদানের রাষ্ট্রদূতকে বরখাস্ত করেছে সেনা বাহিনী।
সেনা অভ্যুত্থানের জেরে বুধবার সুদানকে বাদ দেয়ার ঘোষণা দেয় আফ্রিকার দেশগুলোর জোট আফ্রিকান ইউনিয়ন। আফ্রিকান ইউনিয়ন জানিয়েছে, একটি অন্তর্র্বতী সরকার সুদানকে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে নেবে। সেই সরকার না আসা পর্যন্ত এ স্থগিতাদের বহাল থাকবে।
সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ৩১ অক্টোবর









